তেহরানে শিক্ষার্থীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি

ইরানের রাজধানী তেহরানের শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী হামলা চালিয়েছে এবং বেশ কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের কার পার্কিংয়ে আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে পালিয়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে। আশপাশে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ হচ্ছে। অন্য একটা ভিডিওতে দেখা যায়, এক গাড়িতে বসে যারা ঘটনার ভিডিও করছিল তাদের ধাওয়া দিতে মোটরসাইকেলে করে নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরা আসছে।

মাশা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে ইরানে চলমান বিক্ষোভের অংশ হিসেবে গত রবিবার রাস্তায় নামে শরিফ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। ওইদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়টির বহু শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসে। ইরান ইন্টারন্যাশনাল সাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রাবাসগুলোতে পুলিশ গুলি এবং টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

এদিকে গতকাল সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি অভিযোগ করেছেন, চলমান বিক্ষোভে ইরানের ‘চিরশত্রু’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উসকানি দিচ্ছে। মাশার মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তৃতায় ৮৩ বছর বয়সী খামেনি বলেন, ‘ওই তরুণীর মৃত্যু আমাদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু কিছু লোক প্রমাণ বা তদন্ত ছাড়াই সড়কগুলোকে বিপজ্জনক করে তুলেছে, নারীদের হিজাব খুলে ফেলেছে এবং রাস্তায় রাস্তায় আগুন জ্বালিয়েছে।’   

প্রসঙ্গত, কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘন করায় কুর্দি তরুণী মাশা আমিনিকে (২১) গ্রেপ্তার করে ইরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’। পুলিশি হেফাজতেই ১৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মাশার মৃত্যুর পর থেকে দেশটির পোশাকবিধির বিরোধিতা ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ইরানে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। গত রবিবার নরওয়েভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানায়, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।