যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী বিচ্ছেদ

অন্ধ্রপ্রদেশের পশ্চিম গোদাবরী জেলার ছেলে গিরিকুমার পাতিল। ২০০৭ সালে মেডিসিন বিষয়ে পড়ার সময় থেকে ইউক্রেনে থাকেন, ২০১৬ সালে পান নাগরিকত্ব। ৪২ বছরের এই চিকিৎসকের রয়েছে একটি ইউটিউব চ্যানেল। যেখানে তিনি নিজেকে জাগুয়ার কুমার হিসেবে পরিচয় দেন। প্রায় দুই বছর আগে কিয়েভের চিড়িয়াখানা থেকে একটি জাগুয়ার এবং আরেকটি প্যানথার বা কালো চিতাকে কিনে আনেন গিরিকুমার। যুদ্ধ শুরুর আগে এদের নিয়েই ইউক্রেনের বুকে ছোট্ট সংসার ছিল এই ভারতীয় চিকিৎসকের। দনবাস অঞ্চলে রুশ অভিযান শুরুর পর তিনি আটকা পড়েন। যুদ্ধে আক্রান্ত ইউক্রেন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে অপারেশন গঙ্গা পরিচালনা করে ভারত। কিন্তু সে সময় নিজের সন্তানতুল্য দুই বাঘকে রেখে কিছুতেই ভারতে ফিরতে রাজি হননি গিরিকুমার। ওদিকে চারদিকে তখন মিসাইল বৃষ্টি! জায়গাজমি আর যা কিছু এত দিন কষ্টের টাকায় করেছিলেন, সব নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। এ অবস্থায় প্রিয় প্রাণী দুটোকে নিয়ে এক বাঙ্কারে আশ্রয় নেন গিরি। দুই সপ্তাহ আগে টাকা আর রসদ ফুরিয়ে যায় তার। কীভাবে এত টাকা ফুরাল? কারণ তার বাঘ দুটোকে প্রতিদিন ৩০০ ডলারের মাংস খাওয়াতে হয়! এত বড় প্রাণী দুটোকে বাঁচানোর জন্যই এই খরচ। এ পরিস্থিতিতে প্রাণী দুটোকে ২ হাজার ৪০০ ডলার পারিশ্রমিকে একজনের জিম্মায় দিয়ে, দুই সপ্তাহের মাংস ফ্রিজে রেখে মিনিবাসে করে পোল্যান্ডে রওনা দেন গিরি। কিন্তু পথেই রুশ সেনারা তাকে গুপ্তচর সন্দেহে আটক করে। ভাগ্য ভালো যে বন্দিশিবিরের এক রুশ সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী গিরির ভিডিওগুলো আগে দেখেছেন, স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে গিরির আসল পরিচয় নিশ্চিত হন ওই কর্মকর্তা। পরদিন সকালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। বর্তমানে এই চিকিৎসক পোল্যান্ডের ওয়ারশতে একটি শরণার্থী শিবিরে আছেন। এখন তার একটাই ভাবনা, তার সন্তানতুল্য প্রাণী দুটো কেমন আছে? গিরি বলেন, ‘যেভাবেই হোক ওদের ফিরে পেতে চাই। ভারতের সরকার চাইলে প্রাণী দুটোকে উদ্ধার করে কোনো চিড়িয়াখানা কিংবা জঙ্গলে ছেড়ে দিলেও আপত্তি নেই।’ যেকোনো উপায়ে প্রাণী দুটো যুদ্ধ থেকে বাঁচুক এটাই গিরির চাওয়া।