তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির বিশাল সুযোগ রয়েছে। দেশটির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৯০০ মিলিয়ন ডলার। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে সে দেশে পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক বাধা কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ড. মেহমুদ মুসের সঙ্গে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান গত ২ অক্টোবর তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৯০০ মিলিয়ন ডলারের হলেও তা এখনো কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত কর ও শুল্ক প্রতিবন্ধকতা নিরসনের মাধ্যমে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অধিকতর সম্প্রসারণে দু’দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যকার যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণ এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ২৮টি হাইটেক পার্কে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য তুরস্কের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি।
তিনি বলেন, বিটুবি ম্যাচ-মেকিং, পণ্য প্রদর্শনী, সেমিনার ও আলোচনা সভা এবং যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে তুরস্কে রপ্তানিকৃত ৭৮ দশমিক ৯ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক সুবিধা পেয়ে থাকে, যা বৃদ্ধির আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ডি-৮’র আরও কার্যকর ভূমিকা পালনে বাংলাদেশ এবং তুরস্ক একযোগে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশে উৎপাদিত সিরামিক ও তৈরি পোশাক তুরস্কের বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১৯ ও ১৭ শতাংশ হারে শুল্ক প্রদান করতে হয় এবং নির্ধারিত এ শুল্কহার কমানোর ওপর জোরারোপ করেন।
দু’দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এখনো আশানুরূপ নয় বলে উল্লেখ করে তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ড. মেহমুদ মুস বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও উন্নয়নে আমাদেরকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ একটি উৎকৃষ্ট গন্তব্যস্থল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, তুরস্কের বেশকিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে সফলভাবে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে এবং তুরস্কের প্রতিষ্ঠানসমূহের এ ধরনের সাফল্য আরও প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।
তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসুদ মান্নান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।