কল্যাণ ও সম্প্রীতি কামনায় দেবী বিসর্জন

দেশ ও মানুষের কল্যাণ, সম্প্রীতির প্রার্থনা এবং অশুভ শক্তির বিনাশ কামনায় প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব। গতকাল বুধবার পূজা ও উৎসবের শেষ দিনে বিজয়া দশমীতে সারা দেশের মণ্ডপগুলোতে দেবীকে বিদায়ের হাহাকার যেমন ছিল তেমনি আসছে বছরে মা দুর্গা দেবী আবারও ভক্তের পূজা ও আরাধনা গ্রহণ করতে আসবেন সেই আনন্দ ও আকুতি ছিল পূজারি ও ভক্তের। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ পূজা ও উৎসবের শেষ দিনে গতকালও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মণ্ডপগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। সকালে দশমী বিহিত পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন হয়। এরপর বিকেলে শোভাযাত্রা সহযোগে প্রতিমা নিরঞ্জনে শেষ হয় আনুষ্ঠানিকতা। শাস্ত্র ও বাংলা বর্ষ পঞ্জিকায় উল্লেখ অনুযায়ী এবার দেবী দুর্গা কৈলাস থেকে তার সন্তান গণেশ, লক্ষ্মী, কার্তিক আর সরস্বতীকে নিয়ে ভক্তের পূজা নিতে মর্ত্যে এসেছিলেন গজে (হাতি) চড়ে। ফিরে গেছেন নৌকায় করে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ায় দেবীকে আবাহন ও আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্নের সূচনা হয়। এরপর গত শনিবার ষষ্ঠী তিথিতে বেলতলায় ‘ত্রিনয়নী’ দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ, অধিবাস ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের হিসেবে এবার রাজধানীসহ সারা দেশে ৩২ হাজার ১৬৮ স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে মহাসমারোহে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয় যা গতবারের চেয়ে ৫০টি বেশি। ঢাকা মহানগরে এবার পূজা হয়েছে ২৪১টি মণ্ডপে।

গত বছর দুর্গাপূজায় কুমিল্লার একটি মণ্ডপে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সাম্প্রদায়িক হামলার মতো নারকীয় তাণ্ডব চলে বেশ কিছু জেলায়। এবার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার বাহিনীর পাশাপাশি পূজা কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক টিম দায়িত্ব পালন করে।

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বলেন, পূজার পাঁচ দিনে দেশের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর তারা পাননি। এটি ছিল এবারের পূজায় সবচেয়ে স্বস্তির খবর।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বিঘেœ পূজার আনুষ্ঠানিকতা ও প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত বছরের পূজায় যে তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের তাতে এবারের পূজা নির্বিঘ্ন করা ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের। সরকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তরিক ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।’

বিজয়া দশমীতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ সারা দেশের মণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি নানা আয়োজনে মুখর ছিল।

পূজাসংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকেশ্বরীতে সকালে দশমী বিহিত পূজাসহ দেশ, জাতির মঙ্গল ও অশুভ শক্তির বিনাশ কামনায় প্রার্থনা এবং দর্পণ বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টায় হয় রক্তদান কর্মসূচি। এরপর শোভাযাত্রা সহযোগে বুড়িগঙ্গায় হয় প্রতিমা বিসর্জন। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা ও গ্রামপর্যায়ে আয়োজকদের নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়।