‘অতি গোপনীয়’ জাদুঘরের অন্দরে

সিআইএ জাদুঘর। এটি সম্ভবত বিশে^র সবচেয়ে অদ্ভুত এবং বিশেষ জাদুঘর। যেখানে রয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নানা নিদর্শন; ইতিহাসের আবরণে ঢাকা। আরও রয়েছে বিশে^র বিখ্যাত ও কুখ্যাত ব্যক্তিদের স্মৃতিস্মারক। তবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ ‘অতি গোপনীয়’ এই জাদুঘরটিতে সাধারণ দর্শনার্থীর প্রবেশ নিষেধ। লিখেছেন নাসরিন শওকত

জাদুঘর শব্দটি শোনা মাত্রই ইতিহাস ও প্রাচীন সময়ের রোমাঞ্চ জেগে ওঠে মনে। এর সঙ্গে যদি ‘গোয়েন্দা’ ও ‘গোপনীয়’ এ দুটি শব্দ জুড়ে দেওয়া হয় তাহলে সেই রোমাঞ্চ বেড়ে যায় আরও কয়েক গুণ। সাধারণত জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে । কিন্তু অদ্ভুত শোনালেও এমন জাদুঘরও আছে যেখানে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ! এমনই এক জাদুঘর হলো সিআইএ জাদুঘর, যা ‘টপ সিক্রেট মিউজিয়াম’ বা ‘অতি গোপনীয় জাদুঘর’। ভার্জিনিয়ার ল্যাংলেতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সদর দপ্তর। এর ভেতরেই রয়েছে সিআইএ’র অতি গোপনীয় এই জাদুঘর। যেখানে সাধারণ দর্শনার্থীর প্রবেশ একেবারেই নিষিদ্ধ! এত গোপনীয়তা ও নিষেধাজ্ঞা, সংগতভাবেই প্রশ্ন ওঠে , অতি গোপনীয় এই জাদুঘরের অন্দরে কী আছে? তবে এমন প্রশ্নের চেয়ে বরং জানতে চাওয়া ভালো, আন্তর্জাতিক রাজনীতির ঐতিহাসিক এই সংগ্রহশালায় কী নেই! জাদুঘরটির অনন্য সংগ্রহশালায় নিদর্শনগুলোকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে সিআইএর তৎপরতার কালানুক্রমিক ক্রমে সাজানো হয়েছে। আরও স্পষ্ট করে বললে, সিআইএ জাদুঘরে ১৯৪৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ের ৬০০টিরও বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। যার মধ্যে পাওয়া যাবে স্নায়ুযুদ্ধকালের গুপ্তচরসামগ্রী থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের আলকায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের বন্দুক ও ইরাকের প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেনের লেদার জ্যাকেট।

এই জাদুঘরের মূল দর্শনার্থীরা হলেন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র নিজস্ব কর্মীবাহিনী। এর পাশাপাশি কিছু বিশিষ্ট কর্মকর্তাও দর্শনার্থী হিসেবে এই নিদর্শনগুলো দেখার সুযোগ পেয়ে থাকেন। এই জাদুঘরে শুধু গোয়েন্দা সংস্থাটির সাফল্যের দিকটিই তুলে ধরা হয়নি। কিউবায় ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে উৎখাত করার সিআইএ মিশনের বিপর্যয়কর ভুল ও ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র খুঁজে পাওয়ার ব্যর্থতার প্রসঙ্গও  উদাহরণ হিসেবে তুলে রাখা হয়েছে।

সিআইএ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা হলো সিআইএ বা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি। এটি অনানুষ্ঠানিকভাবে একটি সংস্থা হলেও ঐতিহাসিকভাবে একটি কোম্পানি হিসেবে পরিচিত, যা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে একটি বেসামরিক বিদেশি গোয়েন্দা সেবা সংস্থা হিসেবে কাজ করে থাকে। পেশাদার এ সংস্থাটিকে বিশে^র বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত করা ও বিশ্লেষণের জন্য কাজ করতে হয়। এজন্য প্রাথমিকভাবে মানব বুদ্ধিমত্তাকে (হিউমিন্ট) কাজে লাগিয়ে থাকে তারা। যাতে গোপনে ওই কাজ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কমিউনিটির (আইসি) প্রধান সদস্য হিসেবে সিআইএকে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক বরাবর রিপোর্ট করতে হয়। প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দা এই সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও তার মন্ত্রিপরিষদের জন্য গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের দিকে মনোযোগ দিয়ে থাকে। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ১৯৪৬ সালে ২২ জানুয়ারি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান একটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দল গঠন করেছিলেন। পরের বছর ১৯৪৭ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে গোয়েন্দা ওই দলটিই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থায় রূপান্তরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অন্য নিরাপত্তা সংস্থার মতো সিআইএকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মতো কাজ করতে হয় না। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সিআইএ প্রধানত বিদেশ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করে থাকে। এজন্য সংস্থাটিকে দেশের মধ্যে খুব কম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। সিআইএ আইন দ্বারা অনুমোদিত একমাত্র বেসরকারি সংস্থা, যারা প্রেসিডেন্টের নির্দেশে গোপন কোনো কাজ সম্পাদন ও তদারকি করার অধিকার রাখে।

কেন এই জাদুঘর

গূঢ় বিষয়াবলীর পর্যবেক্ষণ রয়েছে মার্কিন গোয়েন্দাদের লুকানো বিশ্ব ‘সিআইএ জাদুঘর’-এ। প্রাথমিক অবস্থায়  ‘অতি গোপনীয়’ এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। তখন গোয়েন্দা এই সংস্থাটির কর্মীদের তাদের পেশার অনন্য ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন এর সংগ্রহশালার মধ্যে গুরুত্ব পেয়েছে সিআইএর দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের আগের ও এর কৌশলগত সেবা কার্যালয় থেকে শুরু করে বর্তমান সিআইয়ের কার্যকলাপ। ১৯৭২ সালে সংস্থাটির সাবেক নির্বাহী পরিচালক উইলিয়াম ই. কোলবি  সংস্থাটিতে একটি জাদুঘর নির্মাণের ধারণা দিয়েছিলেন। যা নানা ঐতিহাসিক তাৎপর্যের নিদর্শনে পূর্ণ থাকবে। ২০০২ সালে ভার্জিনিয়ার গোয়েন্দা ভবনে জাদুঘরটি স্থাপিত হয়। পরে  সেটি সিআইএ’র লেংলের সদর দপ্তরে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সংস্কার করে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয় গোয়েন্দা সংস্থাটির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সমানে রেখে। তবে জাদুঘরটির দরজা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত না হলেও এর ভার্চুয়াল দরজা খোলা রয়েছে সবার জন্য।

গোয়েন্দা সংস্থাটির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ইন্টেলিজেন্স জাদুঘরটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। এটি সিআইএর জাতীয় সংরক্ষণাগার। সংরক্ষণাগারটি গোয়েন্দা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের বিভিন্ন নিদর্শন সংগ্রহ , সংরক্ষণ, নথিভুক্ত করার পাশাপাশি প্রদর্শনীর আয়োজন করে থাকে। এই সংরক্ষণাগারে বর্তমানে ৩ হাজার ৫০০টি ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। গোপনীয় এই নিদর্শনগুলোকে ইদানীং আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর আগে জাদুঘরটি জর্জ বুশ সেন্টার ফর ইন্টেলিজেন্স কম্পাউন্ডে অবস্থিত ছিল। তখন এর নিদর্শনগুলো সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল না এবং কোনো দর্শনার্থী চাইলেও সেখানে পরিদর্শনও করতে পারতেন না। সিআইএর অতি গোপনীয় এই জাদুঘরটির অন্য অংশীদারও রয়েছে। এর মধ্যে প্রেসিডেন্টের লাইব্রেরি, অন্যসব প্রধান জাদুঘর ও প্রতিষ্ঠান অন্যতম। যাদের দায়িত্ব হলো জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা। আর এ প্রদর্শনীর লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর অভিজ্ঞতার আলোকে গোয়েন্দা পেশার নৈপুণ্যকে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের সংস্থাগুলোর মধ্যে সিআইএ জাদুঘরের আবার প্রতিপক্ষও রয়েছে। নাম তার ন্যাশনাল ক্রিপ্টোলজিক জাদুঘর।

সংগৃহীত নিদর্শন

সিআইএ জাদুঘরে এ পর্যন্ত যত নিদর্শন সংগৃহীত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের আগের সিআইএর কৌশলগত সেবা কার্যালয় (ওএসএস) ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা নিদর্শন। এ ছাড়া রয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ইতিহাস ও মিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত নিদর্শনসমূহও। এই জাদুঘরটিতে সংগৃহীত নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে পোশাক, সরঞ্জাম, অস্ত্র ও স্মৃতিচিহ্ন। যে চিহ্নগুলো ঐতিহাসিকভাবে ও বর্তমান সময়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর করা নকশা, তৈরি বা ব্যবহার করা চিহ্ন। এর সঙ্গে ইউনিট বা ব্যক্তিদের তৈরি করা অন্য আরও স্বতন্ত্র নিদর্শনও রয়েছে, যা গোয়েন্দা মিশনকে এগিয়ে নিতে বিশেষভাবে পরিচালিত গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল।

১৯৪৭ সালে সিআইএর প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকের সময় থেকে শুরু করে স্নায়ুযুদ্ধ পর্যন্ত চলার সময় এবং ২০০১-এর ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার নিদর্শনগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে এই সংগ্রহে, যা সন্ত্রাস থেকে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের তৎপরতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে হামলায় যাদের আত্মীয়রা মারা গেছেন, তাদের পরিবার এই জাদুঘরের জন্য মূল্যবান কিছু নিদর্শন দার করেছেন। যেগুলো এই জাদুঘরের প্রদর্শনীতে রাখা আছে।

‘অতি গোপনীয়’ জাদুঘর

জাদুঘর হিসেবে বিশ্বরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মৃতিকে গোপনীয় হিসেবে লুকিয়ে রাখা অসম্ভব প্রায়। তাই অতি গোপনীয়তার বেড়াজাল ছিন্ন করতেই হয় একসময়। যেমন বিরল এই অবস্থান থেকে সরে আসতে হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকেও। লক্ষ্য বিশ^বাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তাই সিআইএর সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ইন্টেলিজেন্স কর্তৃপক্ষকেও এই জাদুঘরের দ্বার খুলে দিতে হয়েছে। এর অন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে হয়েছে সংবাদমাধ্যমকে। সিআইএর ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভার্জিনিয়ার ল্যাংলের সদর দপ্তরের নতুন ‘সিআইএ জাদুঘর’টির উদ্বোধন করা, যা আকারে বেশ বড় ও নির্মিত হয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে। সেখানে প্রদর্শিত নিদর্শনগুলো যেন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের মধ্যে সুপরিচিত গল্পগুলো সম্পর্কে বলে চলেছে। যদিও সেখানে ‘সিআইএ’ ভবনের দেয়ালের বাইরে কথা রয়েছে অনেক কম। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদারকি করে থাকে বেসরকারি গ্রুপ জাতীয় নিরাপত্তা সংরক্ষণাগার (ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভ)। ওয়াশিংটনভিত্তিক এই সংস্থাটির প্রধান টম ব্ল্যানটন বলেছেন, ‘একটি সংস্থা হিসেবে সিআইএর ৭৫ বছরের দীর্ঘ রেকর্ডের দিকে তাকালে দেখা যায়, এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশে^র বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গুরুতর তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং তা খুব ভালো উপায়ে আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। যার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকেই সুরক্ষিত করা হয়েছে।’

অতি গোপনীয় জাদুঘর সিআইএর অন্দরে দুই সপ্তাহ আগে ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন বিবিসি, গার্ডিয়ানসহ নামকরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কয়েকজন সাংবাদিক। সেখান থেকে ঘুরে এসে জাদুঘরটির বর্ণনা দিয়েছেন বিবিসির প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিনিধি গর্ডন করেরা। তার চোখেই না হয় দেখা যাক কী কী আছে এর অন্দরে। জাদুঘরটিতে ৬০০টি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ঐতিহাসিকভাবে প্রদর্শন করা আছে। এর মধ্যে আশির দশকের সেই স্নায়ুযুদ্ধকালের গুপ্তচর সামগ্রী রয়েছে। যার মধ্যে গোপন বার্তা পেট কাটা মরা ইঁদুর, গোপন ক্যামেরাসহ সিগারেটের প্যাকেট, কবুতরের ছদ্মবেশে থাকা গোপন ক্যামেরা কিংবা বিস্ফোরক মদের গ্লাস রাখা আছে।

তবে এসব নিদর্শনকে ছাপিয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে সিআইএর সাম্প্রতিক বিখ্যাত কয়েকটি অপারেশনের ডামির বিস্তারিত উপস্থাপন। ওই ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা নানা নিদর্শনও সেখানে স্থান পেয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তানের কাবুলে আয়মান আল-জাওয়াহিরিকে হত্যার মিশনে তৈরি করা তার বাড়ির নমুনা ও পাশেই রাখা তার পোশাকও। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে আলকায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার জন্য অপারেশন ‘নেপচুন স্পিয়ার’ ও এর পরিকল্পনায় ব্যবহার করা লাদেনের বাড়িটির একটি মডেল। এর ঠিক পাশেই রয়েছে লাদেনের একে-৪৭ রাইফেলটি। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের চিত্রও তলে ধরা হয়েছে নিপুণ হাতে। যেখানে ক্ষমতাচ্যুত ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের লেদার জ্যাকেট ও তার শখের দুটি স্বর্ণের রাইফেলও রয়েছে।

গোপন এই জাদুঘরের দ্বিতীয় অংশের অর্ধেক স্থানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু অপারেশন। ১৯৬০-এর দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি সাবমেরিন, যা সমুদ্রের নিচে কোথাও হারিয়ে যায়। পরে যা সমুদ্রের নিচে শনাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। ধনকুবের হাওয়ার্ড হিউয়ের সঙ্গে ওই সাবমেরিনটির অবশিষ্টাংশ ও তাতে কী প্রযুক্তি আছে তা জানার জন্য সাবমেরিনটি উদ্ধারে সে সময় কাজ করেছিল সিআইএ। বলা হয়ে থাকে, গ্লোমার এক্সপ্লোরার নামের একটি জাহাজে করে সমুদ্রের নিচে খনির সন্ধান করতে চেয়েছিলেন হাওয়ার্ড হিউ। ফলে সোভিয়েত আমলের ওই সাবমেরিনের একটি মডেল উপস্থাপন করা হয়েছে ওই জাদুঘরে। সিআইএর ওই মিশনটি আংশিকভাবে সফল হয়েছিল।

এসব নিদর্শন দেখে মনে হবে যেন এর মাধ্যমে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর শুধু তার সফলতার আখ্যানই উপস্থাপন করেছে। কিন্তু না তবে কর্তৃপক্ষ জাদুঘরের আরেকটি কর্নারও করেছে। যেখানে গোয়েন্দা সংস্থাটির একাধিক মিশনের ব্যর্থতার কথায়ও মনে করিয়ে দিয়েছে। গুরুত্বের সঙ্গে তুলে আনা হয়েছে লাতিন আমেরিকার কিংবদন্তি নেতা কিউবার ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করার মিশন ‘বে অব পিগস’-এর স্মৃতিস্মারক। যে মিশনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল সিআইএ।

জাদুঘরটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে এর পরিচালক রবার্ট জেড ববায়ার বলেন, ‘ইতিহাসের দিক থেকে এটা শুধু একটি জাদুঘরই নয়, এটা হলো অপারেশনাল জাদুঘর। আমরা এসব নিয়ে সিআইএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলি। আমাদের ইতিহাস ঘুরে দেখি। দেখি তা কতটা ভালো বা মন্দ ছিল। আমাদের কর্মকর্তারা যেন তাদের ইতিহাস বুঝতে পারেন, তা নিশ্চিত করি আমরা। যাতে তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে পারেন। আমাদের সফলতা থেকে শিক্ষা নিতে হয়। ব্যর্থতা বলে দেয় ভবিষ্যৎ আরও ভালো হতে হবে।’