ক্রাইস্টচার্চে আজ পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা বাংলাদেশের

২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেও ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডে স্বাগতিক ও উইন্ডিজকে নিয়ে হওয়া ওই সিরিজে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দারুণ প্রস্তুতি হলেও বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সেমিফাইনালের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তবুও ওই আসরকে বাংলাদেশের জন্য খারাপ বলবে না কেউই। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আজ থেকে শুরু ত্রিদেশীয় সিরিজটিও ওই রকম প্রস্তুতির মঞ্চ। এবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন দেখার স্বপ্ন একেবারেই আকাশকুসুম। তাই এই সিরিজকে ভিন্ন কিছুর মঞ্চ বানাচ্ছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টির সঠিক সুর খুঁজে পেতে নানা কৌশল দেখে নিতে চায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চে আজকের ম্যাচ দিয়ে সেই লক্ষ্য শুরু। বাকি তিন ম্যাচেও বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের সঠিক কৌশলের খেঁজে থাকবে বাংলাদেশ।

সিরিজে টি-টোয়েন্টির দুই সেরা দলের সঙ্গে খেলা সাকিব আল হাসানদের। নিজেদের ভুল ধরার ক্ষেত্রে যা সঠিক মঞ্চ। কিছুদিন আগে আরব আমিরাতের সঙ্গে দুটি জয় আত্মবিশ্বাসে দলকে এগিয়ে রাখবে ঠিক। কিন্তু বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার চ্যালেঞ্জে তো পড়তে হয়নি। সেই আবহটা এই সিরিজে পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এখানে সাকিবদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে পারে আবহাওয়া। ক্রাইস্টচার্চে এখন মারাত্মক ঠা-া। সকালের দিকে সেখানের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রিতে নেমে যায়। ওই সময় তুষারও পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে তাপমাত্রা ১২-১৩ ডিগ্রিতে উঠে। এটাও যে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের জন্য মানিয়ে নেয়া কঠিন তা বলতেই হয়। অবশ্য গত তিনদিন ধরে যথাক্রমে জেমি সিডন্স, নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদী হাসান মিরাজরা এই পরিবেশে মানিয়ে নেয়ার কথাই বলেছেন। পাশাপাশি এত ঠান্ডাতেও ভাল প্রস্তুতিতে নিজেদের প্রস্তুত থাকার জানান দিয়েছেন।

বাংলাদেশের মতো একই পরিস্থিতি পাকিস্তানেরও। আরব আমিরাতের উত্তপ্ত গরমে এশিয়া কাপ ও দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ডে পা রেখেছে বাংলাদেশ। বাবর আজমরাও এশিয়া কাপের পর নিজেদের দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমাব। দুই দলই গরম আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডায় জুবুথুবু। তাই দুই প্রতিপক্ষের জন্য লড়াইটাও হয়ে যাচ্ছে সমান। এখানেই নিজেদের ছাপিয়ে যাওয়ার পালা। এমনিতে অভিজ্ঞতা ও শক্তির বিচারে এগিয়ে আছে পাকিস্তান। তবে বাবরদের রুখতে দারুন কৌশল নিতে পারে বাংলাদেশ।

গত কিছু সিরিজ ধরেই পাকিস্তান ব্যাটিংয়ের সব শক্তি দুই ওপেনারের ব্যাটে। বাবর ও রিজওয়ানকে ফেরালেই নির্ভার হওয়া যায়। দলটির মিডলঅর্ডারের দুর্বলতায় সহজে জয়ের পথ তৈরি করতে পারে প্রতিপক্ষ। এই যেমন সবশেষ ম্যাচে এ দুই ব্যাটার এক অঙ্কের ঘরে রান করে ফিরলে আর কেউই দাঁড়াতে পারেনি। তাই ২১০ রানের পিছু ছুটে ৬৭ রানে হারে পাকিস্তান। অথচ একই সিরিজে দুই ওপেনারের অপরাজিত ২০৩ রানের জুটিতে পাকিস্তান রেকর্ড গড়ে ম্যাচ জিতেছে। বোলিংয়ে ধারটা যতই থাকুক পাকিস্তানের জয়-পরাজয় নির্ভর করে ওপেনারদের সাফল্য-ব্যর্থতার ওপর। জয়ের জন্য বাংলাদেশকে এই দিকটায় নজর দিতে হবে।

অবশ্য সাকিবদের নিজেদের নিয়েই ভাবার আছে অনেক। প্রথমত টি-টোয়েন্টির পাওয়ার হিটিংয়ের ‘ইনট্যান্ট’ নিয়ে কাজ এখনো চলছে বাংলাদেশের। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কা ম্যাচসহ গত তিন ম্যাচে কিছুটা উন্নতি দেখিয়েছেন ব্যাটাররা। সেই ধারাবাহিকতা এই সিরিজে রাখতে একই ছকে খেলতে হবে। এরপর বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজের গুরুত্ব ব্যাটিং পজিশন ঠিক করার দিক থেকে। ওপেনিং পজিশন নিয়ে এই সিরিজেও পরীক্ষা চালাবে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি কনসালট্যান্ট শ্রীধরণ শ্রীরাম। গত কয়েক ম্যাচে ভালো করায় মিরাজের ওপেনিংয়ে থাকা একরকম নিশ্চিত। জুটির ধারাবাহিকতা হিসেবে টিকে যেতে পারেন সাব্বির রহমানও। নয়ত সাব্বিরের জায়গায় দলে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তকে দেখে নেওয়া হতে পারে। পরিবর্তন আসবে ব্যাটিং পজিশনেও। সিপিএলে চারে নেমে ভালো করেছেন সাকিব। তাই অধিনায়ক এই সিরিজেও একই পজিশনে খেলতে পারেন বলে জানান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তিনে লিটন দাস। এরপর আফিফ হোসেন, সোহান ও মোসাদ্দেক হোসেন। সাকিব দলে ফেরায় বাদ পড়তে পারেন ইয়াসির আলি রাব্বি। যদিও কাল বাংলাদেশ সময় বিকেল পর্যন্ত সাকিবের নিউজিল্যান্ডে পৌঁছানোর খবর পাওয়া যায়নি। বোলিংয়ে এক স্পিনার থাকলে গত ম্যাচে একাদশে থাকা নাসুম আহমেদের একাদশে থাকার সম্ভাবনা বেশি। তবে ক্রাইস্টচার্চের পেস কন্ডিশনের বিবেচনায় স্পিনার না নিলে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের পাশাপাশি থাকবেন এবাদত হোসেন।

পাকিস্তানের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সাফল্য মাত্র ২টি। আর ১৩ ম্যাচেই হারতে হয়েছে। আজকের ম্যাচ নিয়েও বড় আশার কিছু নেই। সাকিবদের চিন্তা শুধু অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের সব পরিকল্পনার সঠিক প্রতিফলন করা।