বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়কে কারিগরি ত্রুটি বলেই উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তবে এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না তাও তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, আশুগঞ্জ-সিরাজগঞ্জের দুটি সার্কিট এবং ঘোড়াশালের একটি সার্কিট ‘ট্রিপ’ করার কারণেই সেদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এ সময় সাংবাদিকদের কাছে দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানের বিষয়ে ধারণা দেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুতের জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গত মঙ্গলবারের বিপর্যয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্বাঞ্চলের ঘাটতি মেটাতে পশ্চিমাঞ্চল থেকে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে এ ঘটনার সূত্রপাত। ওই সময় আশুগঞ্জ-সিরাজগঞ্জের দুটি সার্কিট এবং ঘোড়াশালের একটি সার্কিট ‘ট্রিপ’ করার কারণেই সেদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। এতে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পূর্বাঞ্চলে বিদু্যুৎ চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। সিস্টেম ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের নিচে নেমে যায়। আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সির কারণে গ্রিড আনস্ট্যাবল হয়ে যায়। পর্যায়ক্রমে পূর্বাঞ্চালের বিদ্যুকেন্দ্রগুলো ট্রিপ করে বিভ্রাটের সৃষ্টি করে। তবে সঞ্চালন লাইন ব্যর্থ হওয়ার এক ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে তা পুনঃস্থাপন শুরু করতে পারার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের বিশেষ একটি দক্ষতার দিক বলেও মনে করেন নসরুল হামিদ।
গত মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ওই ত্রুটির কারণে ৭ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছিল না রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অনেক এলাকায়।
গ্রিড বিপর্যয় হলেও সঞ্চালন লাইনের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি না হওয়ায় তাকে অনেকটা স্বস্তির দিক হিসেবেই দেখছেন প্রতিমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের এ ঘটনা ‘অস্বাভাবিক’ নয় মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এরকম টেকনিক্যাল ফল্ট হতেই পারে। বিশেষ করে সাবস্টেশনগুলোতে হতে পারে। আমাদের অনেক পুরনো সাবস্টেশন রয়েছে যেগুলো এখনো চলমান। কিছু সাবস্টেশনের আধুনিকায়ন হয়েছে।