কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন জাহাজ চলাচল শুরু

সাগরপথে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় কক্সবাজার শহরের বিআইডব্লিউ ঘাট ছেড়েছে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস। এ মৌসুমের প্রথম যাত্রায় তাদের যাত্রী ছিল ৭৫০ জন।

এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন নৌরুটে বিকল্প পথে জাহাজ চলাচলের দাবি জানিয়েছে সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (স্কোয়াব) ও ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক)। গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। নাব্য হ্রাসের কারণে গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়ে কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের কক্সবাজারের ব্যবস্থাপক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজ ৭৫০ জন যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন রওনা দিয়েছে। এ মৌসুমে প্রথমবারের মতো কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যাচ্ছে। আমাদের তরফ থেকে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছে। জাহাজই রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দল। সবকিছু ঠিক থাকলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাহাজটি সেন্টমার্টিন পৌঁছানোর কথা রয়েছে।’

জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (স্কোয়াব) সভাপতি তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘর্ষের কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চালু করা যাচ্ছে না। তবে বিকল্প উপায় হিসেবে কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বলেন, ‘নাব্য সংকটের কারণে আপাতত টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ কর্ণফুলী এক্সপ্রেস পরীক্ষামূলক চলাচল করবে। পর্যায়ক্রমে অবস্থা বুঝে আবেদন করা জাহাজগুলোকেও অনুমতি দেওয়া হবে।’

এদিকে গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এক যুগের বেশি সময় ধরে টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করে আসছে জাহাজ মালিকরা। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানোর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব খাতে বড় ধরনের অবদান রেখে আসছে। কক্সবাজারে প্রতি বছর ২০-২৫ লাখ পর্যটক ভ্রমণে আসেন, তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ পর্যটকের চাহিদা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করেন। এতে করে কয়েকশ মানুষের বিনিয়োগে টেকনাফ, উখিয়া ও সেন্টমার্টিনে গড়ে উঠেছে উন্নতমানের হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট ও অসংখ্য রেস্তোরাঁ। বিগত বছরগুলোয় অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটন মৌসুমে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ১০টি জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু গত ২৮ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে যাহা খুবই হতাশাজনক। তাই পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে পর্যটন শিল্পকে ধ্বংসের কবল থেকে রক্ষা করতে বিকল্প পথে টেকনাফ হতে সেন্টমার্টিন পর্যটন পারাপারের চিন্তা করা হচ্ছে। যেহেতু নাফ নদীতে নাব্য সংকটের কথা বলা হয়েছে সেহেতু জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখে বিকল্প হিসেবে টেকনাফের সাবরাং ট্যুরিজম পার্কসংলগ্ন সৈকত থেকে জাহাজ চলাচল চালু করা সম্ভব। ওই স্থানে নিজস্ব অর্থায়নে একটি কাঠের তৈরি জেটি (অস্থায়ীভাবে) নির্মাণ করে পন্টুন স্থাপনের মাধ্যমে। তাতে করে পর্যটকের ঝুঁকি তেমন থাকে না ও সাবরাং পয়েন্ট থেকে পর্যটক নিয়ে জাহাজগুলো সরাসরি সেন্টমার্টিন জেটি ঘাটে পৌঁছানো অধিকতর সহজ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্কোয়াবের সভাপতি তোফায়েল আহমদ, টুয়াকের সভাপতি আনোয়ার কামালসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।