আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, ভারতে ভিন্ন ধর্মের বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়কে বেআইনিভাবে শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা ক্রমে বাড়ছে। বিশেষত যেসব রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানেই এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। গতকাল শুক্রবার সংস্থাটি এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেছে।
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, বেআইনিভাবে নির্মিত মুসলমান সম্প্রদায়ের বাড়ি বা দোকানপাট আদালতে না গিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে এবং তারা হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসবে বিঘœ সৃষ্টি করেছেÑ এ অভিযোগে প্রকাশ্যে পেটানো হচ্ছে। সংস্থার দক্ষিণ এশিয়ার মহাপরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা খোলাখুলি আইন অমান্য করে নিজেরা শাস্তি দিয়ে সাধারণ মানুষকে এ বার্তা দিচ্ছেন যে মুসলমানদের আক্রমণ করার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতিতে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের মান্ডসোর জেলায় গত রবিবারের একটি ঘটনারও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানেও গরবা নাচের অনুষ্ঠানে পাথর ছোড়ার অভিযোগে ১৯ মুসলমান পুরুষের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং দাঙ্গা করার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করার পর তিনজনের বাড়ি আদালতের অনুমতি ছাড়াই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক মাসের ছোট একটি তালিকাও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে গত এপ্রিল মাসে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার খবর সামনে আসার পর মধ্যপ্রদেশের খার্গন, গুজরাটের আনন্দ ও সাবরকাঁথা এবং দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরী অঞ্চলে প্রধানত মুসলমান সম্প্রদায়ের সম্পত্তিতে প্রশাসনের হাত পড়ে। খার্গনে ১৬টি বাড়ি ও ২৯টি দোকান, আনন্দে ১০টি দোকান ও ১৭টি গুদাম এবং সাবরকাঁথায় ৬টি সম্পত্তি বিনষ্ট করে দেওয়া হয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, যদিও কর্তৃপক্ষের তরফে সম্পত্তি বিনষ্ট করার পক্ষে একটি যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, এ নির্মাণগুলো বেআইনি। কিন্তু প্রশাসনের বিবৃতি ও কাজ মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, প্রধানত মুসলমান সম্প্রদায়ের সম্পত্তিই বিনষ্ট করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে মুসলমানদেরই দাঙ্গার সময়ে সাম্প্রদায়িক হানাহানিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দোষীসাব্যস্ত করে প্রশাসন নিজেই ব্যবস্থা নিচ্ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের শুক্রবারের বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, জুন মাসে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোটিয়াররা ‘খেয়ালখুশিমতো মুসলমান সংখ্যালঘু এবং নিম্ন আয়ের মানুষ’র বিরুদ্ধে আইনবহির্ভূতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় সম্পর্কে ভারত সরকারকে জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানব ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্টও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।