মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করে নেত্রকোনা থেকে ঢাকায় এসে কমলাপুর রেলস্টেশনে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক কিশোরী। গত শুক্রবার গভীর রাতে স্টেশনে থেমে থাকা একটি ট্রেনের মধ্যে দল বেঁধে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণের শিকার হয়েছে আরও এক নারী ও শিশু। এরমধ্যে মাদারীপুরের ডাসারে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দূরসম্পর্কের দাদাকে আটক করেছে পুলিশ। আর ঢাকার আশুলিয়ায় এক নারী নিরাপত্তা প্রহরীকে ধর্ষণের অভিযোগে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বয়স ১৭ বছর। অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে আসার পর কিশোরীর সঙ্গে রেলস্টেশনে পরিচয় হয় ইমরান (২০) নামে এক তরুণের সঙ্গে। সে কিশোরীকে স্টেশনের এক নম্বর প্লাটফর্মে তুরাগ কমিউনিটি লোকাল ট্রেনের বগিতে রাতে শুয়ে থাকতে বলে। পরে ট্রেনটির একপাশের দরজা আটকে অপরপাশের দরজা দিয়ে বগিতে ঢুকে ইমরান ও তার পাঁচ সঙ্গী কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এ সময় রেলওয়ের এক কর্মকর্তার উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। পরে গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে ওই কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। ধর্ষণের ঘটনায় ঢাকা রেলওয়ে থানায় কিশোরী বাদী হয়ে করা মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলো সুমন (২১), নাঈম (২৫), নাজমুল (২৫), আনোয়ার (২০) এবং রোমান ওরফে কালু (২২)। তবে প্রধান আসামি ইমরান (২০) পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামলার আসামিরা একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় ধোয়ামোছার কাজ করে। স্টেশন এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী তারা।
ধর্ষণের শিকার কিশোরী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিনি অবিবাহিত। এর আগেও একাধিকবার বাবা-মায়ের সঙ্গে রাগ করে ঢাকায় এসেছিলেন। তখন কমলাপুর রেলস্টেশন ও বিমানবন্দর এলাকায় থেকেছেনও। তবে ধর্ষণকারীরা তার পরিচিত না।
ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) এসআই রিয়াজ মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই কিশোরীর বাড়ি নেত্রকোনায়। বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে রাগ করে শুক্রবার বিকেলে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে রাতে কমলাপুর এসে নামেন। সেখানে ৪-৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বসে থাকা অবস্থায় পানি বিক্রেতা ইমরানের সঙ্গে তার কথা হয়। সে ওই কিশোরীকে বিভিন্ন কথা বলে প্ল্যাটফর্মের একটি বেঞ্চে শুয়ে থাকতে বলে এবং তাকে কেউ কিছু বললে ইমরানের পরিচিত বলে জানাতে বলে। পরে রাত গভীর হলে কিশোরীকে এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে তুরাগ কমিউটার লোকাল ট্রেনের বগিতে শুয়ে থাকতে বলে একপাশের দরজা আটকে দেয় ইমরান। এরপর অপরপাশের একটি দরজা দিয়ে ঢুকে ইমরান ও তার ৫ সঙ্গী মিলে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। রাত ১টার দিকে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যকে সেখান দিয়ে যাতায়াত করতে দেখে ধর্ষণকারীরা ভয়ে পালিয়ে যায়। তখন নিরাপত্তাকর্মীর সন্দেহ হলে তিনি উঁকি দিয়ে দেখেন, ট্রেনের বগির ভেতরে পড়ে আছে ওই কিশোরী। পরে তিনি থানায় খবর দেন। এরপর কিশোরীকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।
এসআই রিয়াজ আরও বলেন, রাতেই ওই কিশোরীর শনাক্তের পর স্টেশন এলাকা থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) ওসি ফেরদাউস আহম্মেদ বিশ্বাস বলেন, কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মাদারীপুরে নাতনি ধর্ষণের অভিযোগে দাদা আটক: মাদারীপুরের ডাসারে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তার দূরসম্পর্কের দাদা আব্দুল শেখকে আটক করেছে পুলিশ। শিশুটির বাবা গতকাল সকালে মামলা করার পর তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার জেলার ডাসার উপজেলার আইসার গ্রামে।
আশুলিয়ায় নারী নিরাপত্তা প্রহরীকে ধর্ষণ: ঢাকার আশুলিয়ায় নারী নিরাপত্তা প্রহরীকে মেসে ডেকে নিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে জিফোরএস নামে বেসরকারি একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে আশুলিয়ার বুড়ির বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বুড়ির বাজার এলাকার দারা মিয়ার বাড়ির নিচতলায় জিফোরএস সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানের পুরুষ গার্ডদের মেসে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন নারী নিরাপত্তা প্রহরী।
গ্রেপ্তার দুজন হলোÑ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের পেগইল মধ্যপাড়া গ্রামের আনসার আলীর ছেলে মো. ফেরদৌস খন্দকার (৩৮) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার খোপতল গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মাসুদ আবেদীন (৩০)।