রাজধানীর শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগের করা মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ২৪ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
তিন বছর আগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ স্মরণে গত শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সভার আয়োজন করে ছাত্র অধিকার পরিষদ। সেখানে ছাত্রলীগের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরেক দফা হামলার শিকার হন ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা। এরপর পরিষদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করে শাহবাগ
থানায় দুটি মামলা করেন ছাত্রলীগের দুই নেতা। এতে ২৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
ওই মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ২৪ নেতাকর্মীকে গতকাল আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে শাহবাগ থানা পুলিশ। অন্যদিকে তাদের পক্ষে জামিন ও চিকিৎসার আবেদন করেন আইনজীবীরা। আদালত শুনানির জন্য ১১ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করে ২৪ জনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে কারাবিধি অনুযায়ী তাদের চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
গতকালের শুনানিতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান।
কারাগারে পাঠানো ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঢাবি শাখার সভাপতি আকতার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন রয়েছেন। বাকি অন্যরা হলেন মো. সাদ্দাম হোসেন, মো. তসলিম হোসাইন অভি, আব্দুল কাদের, মো. তরিকুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ, নাজমুল হাসান, রাকিব, আরিফুল ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, এইচ এম রুবেল হোসেন, ইউসুফ হোসেন, মিজান উদ্দিন, বেলাল হোসেন, ওমর ফারুক জিহাদ, আবু কাউছার, জাহিদ আহসান, মোয়াজ্জেম হোসেন রনি, সানাউল্লাহ, শাহ ওয়ালিউল্লাহ, মো. রাকিব ও সাজ্জাদ হোসেন পারভেজ।
এদিকে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম এলাকায় অবস্থান নিয়ে মিছিল করেন গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মুক্তি না হলে তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবেন। কিছু সময় অবস্থানের পর সেখান থেকে চলে যান নুর।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের একটি কক্ষ থেকে আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। দণ্ড পাওয়ারা সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতাকর্মী।