প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ নারায়ণগঞ্জবাসী: শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জের মানুষের বহুল কাঙ্ক্ষিত বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সোমবার (১০ অক্টোবর) নিজ কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। এই সেতু উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর দুই প্রান্তের মানুষের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের সেতু বন্ধন তৈরি হলো। পাশাপাশি পদ্মা সেতু হয়ে চট্রগ্রামগামী যানবাহন এই সেতু দিয়ে চলাচলের ফলে ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে।

এদিকে সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে সকাল থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড়ে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটে। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে সকাল ১০টা থেকে মিছিল নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকে। সবার মাঝে বিরাজ করছিলো উৎসবের আমেজ।  

সেতু উদ্বোধনকালে প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর আগে দুটি সেতু করেছি। এটি ৩য় সেতু। এই সেতু নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ পদ্মা সেতু থেকে চট্রগ্রাম ও সিলেটগামী যানবাহন সুবিধা পাবে। প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের নামে সেতুর নামকরণ প্রসঙ্গে প্রধাণমন্ত্রী বলেন, নাসিম ওসমান হচ্ছেন আমাদের আওয়ামী লীগ নেতা একেএম সামছুজ্জোহা চাচার বড় সন্তান। তার দাদা খান সাহেব ওসমান আলী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তার বাড়ি ছিল আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ সময়ে ধানমন্ডির বাড়িতে বন্দি অবস্থা থেকে আমার পরিবারকে উদ্ধার করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন সামছুজ্জোহা সাহেব। ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। 

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে আমাদের পুরো পরিবারকে হত্যার পর ওনাকেও গ্রেফতার করা হয়েছিলেন। ১৪ আগস্ট ছিলো নাসিম ওসমানের বিয়ের দিন। সেই অনুষ্ঠানে শেখ কামালও গিয়েছিলেন। রাতেই আবার ঢাকায় ফিরে এসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদ করতে নববধূকে রেখে বেরিয়ে গিয়েছিলেন নাসিম ওসমান। পার্লামেন্ট মেম্বার থাকাকালে বারবার আমার কাছে এসেছিলেন এই সেতুটির জন্য। সেতুর কাজ শুরু হওয়ার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত তৃতীয় এ সেতুর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সদর উপজেলা ও বন্দর উপজেলার মধ্যে সংযোগ তৈরি হচ্ছে। শুধু ব্রিজই নয়, নারায়ণগঞ্জে জাতির পিতার কন্যা যে পরিমাণ কাজ করেছেন, তাতে নারায়ণগঞ্জবাসী চির কৃতজ্ঞ। সবকিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটি স্থানে এসে পৌঁছেছি, এভাবে চললে নারায়ণগঞ্জ ঢাকার চেয়েও উন্নত হবে। আল্লাহর রহমতে এটি হয়েছে, আরেকটি হবে নবীগঞ্জ এলাকা দিয়ে। এই সেতুটির স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রয়াত সংসদ সদস্য একেএম নাসিম ওসমান।

তিনি আরও বলেন, এখানে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে মানুষের আগ্রহ। জাতির পিতার কন্যার অভিপ্রায় হচ্ছে, একদিন আগেও যদি সেতু চালু হয়, মানুষ একদিন আগেই সুবিধা পাবে। পদ্মা সেতু হয়ে এই ব্রিজ দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। এই সড়কটি চার লেনে উন্নীত হচ্ছে। এটি দিয়ে মদনপুর এবং পূর্বাঞ্চলে যাওয়া যাবে। 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ রশীদ, সাধারণ সম্পাদক কাজিমউদ্দিন প্রধাণ, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোদাছ্ছেরুল হক দুলাল প্রমুখ।