নরসিংদীর পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছের পরিচয় দিয়ে অজ্ঞাত এক প্রতারক দুজনের কাছ থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকা পাঠানোর দাবি করেছে।
রবিবার বিকেলে পলাশ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশিক্ষক সালমা সরকার ও একই অফিসের মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের মুঠোফোনে প্রতারণার ফাঁদ পেতে ওসির নাম বলে এই টাকা দাবি করা হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পলাশ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেহানা পারভীন জানান, ঘটনাটি তারা আমাকে জানালে তাদের থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিই।
এ ঘটনায় রবিবার রাতে পলাশ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও সোমবার দুপুরে প্রশিক্ষক সালমা সরকার পলাশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সালমা সরকার জানান, রবিবার বিকেলে অপরিচিত এক নম্বর থেকে (০১৩২৪০২৪৪৬১) তার মুঠোফোনে পলাশ থানার ওসি পরিচয়ে একজন ফোন করেন। এ সময় তিনি ফোনে বলেন, ভুল করে আপনার নম্বরে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা পাঠিয়েছে। এই টাকা আপনাকে নগদের মাধ্যমে ফেরত পাঠাতে হবে। না পাঠিয়ে বাসা থেকে বের হলে পুলিশ ফোর্স দিয়ে তুলে নিবে। এ সময় ফোনে সালমা সরকারের চাকরির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে হুমকি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন কথিত ওসি।
সালমা সরকার আরও জানান, এ সময় বিকাশে টাকা আসছে কি না যাচাই না করে, টাকা না পাঠাতে চাইলে তিনি আমাকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়াসহ বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনার পর আমি পলাশ থানার ওসির মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাকে বিস্তারিত জানিয়ে সোমবার দুপুরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি।
এদিকে একই দিন বিকেলে একই অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানকেও পলাশ থানার ওসি পরিচয়ে মুঠোফোনে একই নম্বর থেকে কল করে টাকা পাঠাতে বলেন।
মুহম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, পলাশ থানার ওসি পরিচয়ে আমার মুঠোফোনে কল করে জানান, ১৫ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে গিয়ে ভুল করে আমার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন। তাই তিনি টাকা ফেরত পাঠাতে বলেন। এ সময় বললাম আমার নম্বরে তো বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা নেই তখন তিনি জানান, বিকাশ অ্যাকাউন্ট করে টাকা উঠিয়ে নেবেন এখন আমি একটি নগদ অ্যাকাউন্টের নম্বর দিচ্ছি এই নম্বরে দ্রুত ১৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, স্যার অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা উঠিয়ে বিকেলে দিই, তখন তিনি আমাকে ফোর্স দিয়ে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসবে বলে হুমকি দেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। ওসির পরিচয়ে তিনি আরও বলেন, আমার পরিচিত কোন বিকাশের দোকান আছে কী না যেখান থেকে টাকা পাঠাতে পারব। আমি বললাম আমার কোন পরিচিত দোকান নেই। পরে তিনি আমার অফিসের তিনজন সহকর্মীর নাম বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পাঠাতে বলেন। একপর্যায়ে আমাকে ফোনকলে রেখে আমাদের এক সহকর্মীর মুঠোফোনে কানেক্ট করে দেন। পরে সেই সহকর্মীর কাছে ১৫ হাজার টাকা না থাকার কারণে দিতে পারেনি। ওসি পরিচয়ে তিনি আমাকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় খুবই ভীত ও দুর্বল হয়ে পড়ি। পুনরায় এ ঘটনায় চেয়ে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছি। এ জন্য পলাশ থানায় রাতেই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, অভিযোগকারীদের যে নম্বরে ফোন করে প্রতারক টাকা পাঠাতে বলেছে সেই নম্বরটি রাঙামাটিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা তাকে আটক করার চেষ্টা করছি।