পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হচ্ছে চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন

ভারতের ত্রিপুরা ও আসাম অঞ্চলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাড়াতে মৌলভীবাজারের চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও অভিবাসন কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মৌলভীবাজারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর করতে বিদ্যমান সুবিধা-অসুবিধা জানার জন্য গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষ পরিদর্শন করেছেন। মৌলভীবাজার চাতলাপুর সীমান্তের চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও অভিবাসন কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয় পাকিস্তান শাসনামল থেকে। প্রথমে এই সীমান্ত হয়ে বৈধ ভিসা নিয়ে দুই দেশে লোকজন পারাপার শুরু হয়েছিল। পরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। এই স্থল শুল্ক স্টেশন হয়ে ভারতে রপ্তানি হয় বাংলাদেশি সব কোম্পানির সিমেন্ট, বাংলাদেশি প্লাস্টিক দরজা, স্যানিটারি সামগ্রী, বিভিন্ন কোম্পানির প্লাস্টিক সামগ্রী, মাছসহ অনেক পণ্য।

আমদানি-রপ্তানিকারক জসিম উদ্দিন, সোহেল চৌধুরী, মশিক মোল্লা জানান, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে গত এপ্রিল মাস থেকে এই স্থল শুল্ক স্টেশন হয়ে সব ধরনের পণ্য কার পাসিংয়ের মাধ্যমে ভারতে সরাসরি রপ্তানি শুরু হয়। অন্যদিকে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ভারতের আসাম, মেঘালয় থেকে ডাউকি স্থলবন্দর দিয়ে ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানির জ¦ালানি তেল নিয়ে তেলবাহী ট্যাংকগুলো চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে ত্রিপুরা প্রবেশ করে। এ ছাড়া চলমান দুর্গাপূজার আগে ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হলে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন হয়ে প্রায় সাড়ে ৩৮ হাজার ৭৪৫ কেজি ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান খন্দকার জানান, জ্যেষ্ঠ বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও অভিবাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করে এর বিদ্যমান পরিস্থিতি ও সার্বিক কার্যক্রম বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এই শুল্ক স্টেশনকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর করার বিষয়ে কী কী করা যায়, সে সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত খোঁজ নেন।