প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম স্থানে রয়েছে। মেয়েদের খেলাধুলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং ২০০৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে নারী শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপরও প্রায় ৫১ শতাংশ মেয়ের সম্ভাবনাকে বাল্যবিয়ের মতো প্রতিবন্ধকতা বাধাগ্রস্ত করছে। দেশের গ্রামাঞ্চল এবং দরিদ্র অঞ্চলে মেয়েদের পরিস্থিতি আরও খারাপ।
গতকাল মঙ্গলবার ‘আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস-২০২২’ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় সংলাপের মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘এখনই সময় ভবিষ্যৎ গড়ার, নিশ্চিত কর নিজের অধিকার’।
সংলাপে বলা হয়, দেশের ৯৬.৬২ শতাংশ স্কুলে মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা রয়েছে, যা পিরিয়ড চলাকালে স্কুলে মেয়েদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। কভিড বিধিনিষেধের কারণে মেয়ে এবং নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে ছেলে এবং মেয়েদের মধ্যে জেন্ডার বৈষম্য বিশেষ করে ডিজিটাল বিভাজন বেড়েছে।
প্রবন্ধে বলা হয়, উচ্চতর শিক্ষায় অংশগ্রহণ না করায় মেয়েদের কাজের ক্ষমতা এবং বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বাধীনতা স্থবির হয়ে পড়ে। খুব কম মেয়েই প্রয়োজনীয় কৌশল এবং দক্ষতা শিখতে পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পায়, যা মেয়েদের নিম্ন আয় এবং উচ্চ বেকারত্বের দিকে ধাবিত করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বাল্যবিয়ে রোধে শুধু মেয়েদের নয়, ছেলেদেরও সচেতন করতে হবে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য পরিপূর্ণ বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে সরকার নতুন কারিকুলাম শুরু করতে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ইভটিজিং প্রতিরোধের উপায় কোনোভাবেই মেয়েদের ঘরে আটকে রাখা নয়, ইভটিজিং প্রতিরোধের উপায় অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড এবং অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত জেরেমি ব্রুর। ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি অফিসার ইনচার্জ ড. সাজা আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সেশনটি সঞ্চালনা করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির।