প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নেই পুঁজিবাজারে

দেশের পুঁজিবাজারের অনেক রকমের সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলোর সমাধানও হয়েছে। তবে সমস্যার সমাধান করে বাজারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার পরেও দেশের পুঁজিবাজারের উন্নতি নেই। কারণ বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নেই। রিটেইল মার্কেট দিয়ে এ বাজার বেশিদূর নিয়ে যাওয়া যাবে না। গতকাল বুধবার এক সেমিনারে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ, ২০২২ উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) আয়োজিত ‘বিনিয়োগকারীদের স্থিতিস্থাপকতা : চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকের লাইসেন্স তো কম দেওয়া হয়নি। সব অনুকূল পরিবেশই আছে। তবে বাজারের এ হাল কেন? ব্যাংকের দক্ষ জনবল আছে তারাই সব কর্ম পরিচালনা করে। বোর্ড শুধু সিদ্ধান্ত দেয়। তাই নতুন নতুন ব্যাংকগুলোও ভালো করছে। কিন্তু বাজারে দক্ষ জনবলের অভাব।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, মূলত লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ও কাক্সিক্ষত শেয়ার দর না পাওয়ার কারণে ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায় না। আমি ভালো কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাকে বলেছে, তালিকাভুক্ত হলে শেয়ারের সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না। আর সবচেয়ে বড় যে সমস্যা সেটা হচ্ছে, তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে হবেই। কিন্তু ভালো কোম্পানিগুলো চায় মুনাফা আবার বিনিয়োগ করে ব্যবসা বাড়াতে।

 বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, পুরো পৃথিবীজুড়ে মহামারী করোনায় যা হয়েছে তা আমরা ভাবতেও পারি না। পুরো বিশ্ব একসঙ্গে এই খারাপ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে পারাই যার প্রধান কারণ। দুই বছর পর যখন সব স্বাভাবিক হলো তখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার কোনো দ্রুত সমাধান নেই। যা আমরা ফেস করছি তা খুবই চ্যালেঞ্জিং।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব জ্বালানি ব্যবহারে হিসাবি হতে বলেছেন। তিনি খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে খুব মনোযোগী। আলহামদুলিল্লাহ্ আমাদের দেশের মাটি বেশ উর্বর। তারপরেও ভবিষ্যতে সব পরিস্থিতির মোকাবিলায় খাদ্য উৎপাদন সচল রাখতে হবে।

এসময় বিএপিএলসির সভাপতি এম আনিস উদ দৌলার সভাপতিত্বে এবং বিএপিএলসির সহ-সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুরের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এবং বিএপিএলসির সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধুরী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, বাজারে বর্তমানে যে পদ্ধতি আছে সেটা পরিবর্তন করতে চাই না। কারণ আমরা চাই সব কোম্পানি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে না আসুক। অনেক কোম্পানি আছে তারা এই সুযোগ নিয়ে মানুষের টাকা মেরে দেবে। আমরা সেই সুযোগ বন্ধ করতে চাই। তবে ভালো কোম্পানি আসতে চাইলে আমরা তাদের সুযোগ সুবিধা দিয়ে বাজারে নিয়ে আসব। আমরা নিশ্চিত করব তারা যেন শেয়ারের ভালো দাম পায়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিএসই চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান, বিএপিএলসির সাবেক সহ-সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ এবং বিএপিএলসির ইসি সদস্য ও আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মমিনুল ইসলাম।