কসমেটিকস আমদানিকারকদের দুষলেন ভোক্তা ডিজি

দেশের বাজারে আমদানি ব্যয় বেশি হওয়ার অজুহাতে অবৈধ কসমেটিক পণ্য আমদানিকারকদের দুষলেন ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। তিনি বলেন এটা কখনো ব্যবসায়িক চিন্তা হতে পারে না। আমদানিকারক ছাড়া যেহেতু কোনো পণ্য আমদানি করা যায় না তাই যিনি আমদানিকারক তার তথ্য সরকারের কাছে থাকতে হবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। কসমেটিকস পণ্য আমদানিকারক, বাজারজাতকারী ও ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মতবিনিময় সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, আমরা একদিনেই সব পরিবর্তন করতে পারব না। নকল পণ্য বিদেশে কল্পনাই করা যায় না। আমরা সেটা দ্রুত সময়ে কীভাবে সমাধান করা যায় চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমকে ম্যানেজ করা হয়। সবকিছু কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেটা দেখতে হবে। ভ্যাট কমিয়ে আমদানি বাড়াতে হবে। ডিউটি ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা যাবে না। আজকের আলোচনার একটি রিপোর্ট সরকারকে দেব। সেই অনুযায়ী সামনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের দেশে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম নির্ধারণ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, পণ্যে উৎপাদনের তারিখ ও তার মেয়াদ থাকতে হবে। বিএসটিআইয়ের মাধ্যমে পণ্যের মান অবশ্যই করতে হবে। পণ্যের দাম নির্ধারণ করতে হবে এবং এটা করবেন আমদানিকারকরা। কিন্তু আমাদের এখানে যিনি বিক্রি করেন তিনিই দাম নির্ধারণ করেন। আমাদের অভিযানে দেখা যাচ্ছে এসব মানা হচ্ছে না।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশোধনের কথা জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, বর্তমানে যে আইন রয়েছে সেটি ২০০৯ সালের। আমরা নতুন আইনের খসড়া সরকারকে পাঠিয়েছি। কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সেটা ঠিক হলে নতুন আইন আসবে।

মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন বন্দরে (পণ্য আমদানিতে) ভ্যাট হার ভিন্ন হওয়ায় আমদানিকারকদের পণ্যের দাম নির্ধারণ করতে গিয়ে প্রতিযোগিতায় পড়তে হচ্ছে। এছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পণ্য আমদানি করতে উচ্চহারে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা পণ্য হাতে পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি করে তা আমদানি করছেন। এতে খরচ কিছুটা কম হলেও অবৈধভাবে আমদানি বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে নকল পণ্য।

সভায় মিনাবাজার, মোস্তফা মার্ট, ঢালি সুপার শপ, আল হারামাইনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। এসময় ব্যবসায়ীরা বলেন, আমদানি করা পণ্যে ভ্যাট বেশি দিতে হয় বলে দাম বেশি নির্ধারণ করতে হয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নকল পণ্য। এসব নকল পণ্যের দাম কম হওয়ায় আসল পণ্য বাজারে টিকে থাকতে পারছে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রতিটি পণ্যে আমদানিকারকের বারকোড দেওয়ার দাবি জানান তারা। বারকোডে পণ্যের আমদানিকারক, মানসহ সবকিছু পাওয়া যাবে বলে অভিমত দেন বক্তারা।