হিজাব নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিভক্ত রায়

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বহুল আলোচিত কর্ণাটকের কলেজে হিজাব নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুসলিম ছাত্রীদের আবেদনের জবাবে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বিভক্ত রায় দিয়েছে।

এ বছরের শুরুতে কর্ণাটকের একটি কলেজের শ্রেণিকক্ষে হিজাব পরা ৬ মুসলিম ছাত্রীকে বসতে বাধা দেওয়া

নিয়ে বিতর্ক ও উত্তেজনা শুরু হয়েছিল। মার্চে কর্ণাটক হাইকোর্ট রায় দেয় যে, ইসলামে হিজাব পরা ‘অপরিহার্য’ নয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল মুসলিম ছাত্রীরা।

তবে সুপ্রিম কোর্টেও সেই বিতর্ক শেষ হলো না। হিজাব পরা নিয়ে পরস্পরবিরোধী মত প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। দুই বিচারকের একজন হেমন্ত গুপ্ত। তিনি কর্ণাটক হাইকোর্টের ওই রায় বহাল রেখে শ্রেণিকক্ষে হিজাব নিষিদ্ধের পক্ষে তার মত দেন।

অন্যদিকে বিচারক সুধাংশু ধুলিয়া মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরার নিষেধাজ্ঞা বাতিলের পক্ষে বলেন, ‘হিজাব পরা আসলে ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। এর বাইরে কিছু নয়। সবকিছুর ঊর্ধ্বে মেয়েশিশুদের শিক্ষা।’

বেঞ্চের বিচারকরা হিজাব বিতর্কে বিভক্ত রায় দেওয়ায় এখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনার জন্য ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।

ভারতে কমপক্ষে ১০ মাস ধরে হিজাব নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে। মানুষ এর পক্ষে-বিপক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু মুসলিম নারী শিক্ষার্থীরা হিজাব পরাকে তাদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত অধিকার বলে দাবি করছে। কর্ণাটক কলেজ কর্র্তৃপক্ষের ভাষ্য ছিল, শ্রেণিকক্ষে ইউনিফর্মের বাইরে কাউকে অন্য কিছু পরতে দেওয়া হবে না। সেই সিদ্ধান্তই বিতর্ক সৃষ্টি করে। রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ-আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শোরগোল হয় রাজ্যের বাইরেও।

ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হিন্দুত্ববাদী নেতাকর্মী, সমর্থকরা হিজাবের জবাবে গেরুয়া চাদর পরতে শুরু করে। পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে এ নিয়ে। কোথাও কোথাও সংঘর্ষও ঘটে। অবশেষে তা আদালতে গড়ায়।