বাধা দেওয়া পুলিশ সদস্যদের তালিকা করুন : খসরু

চট্টগ্রামে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে আসার পথে যেসব আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বাধা দিয়েছে, যেসব পুলিশ বাড়িতে গিয়ে হয়রানি করছে, নেতাকর্মীদের তাদের নামের তালিকা করতে বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত বুধবার রেলওয়ের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে সার্বিক বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন।

আওয়ামী লীগ সহিংসতার দিকে আর বিএনপি গণতন্ত্রের দিকে নিতে চায় বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা পূর্ণমাত্রায় ধৈর্যধারণ করে মহাসমাবেশকে সফল করেছে। কিন্তু সহিংসতা এসেছে কাদের কাছ থেকে? আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে। আমরা কোনো সময় সহিংস রাজনীতির দিকে যাব না। এ ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। তারা (আওয়ামী লীগ) দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে, আমরা দেশকে গণতন্ত্রের দিকে নিতে চাচ্ছি। আমরা গণতন্ত্রের পথে থাকব, যারা জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তারা সহিংসতার দিকে থাকবে, জয় হবে গণতন্ত্রের। জয় হবে বাংলাদেশের মানুষের।’

আমীর খসরু বলেন, ‘পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীদের তালিকা করছে। আমি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারাও তালিকা করেন। এরা কারা, যারা হামলা করেছে, আক্রমণ করেছে, আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের আহত করেছে, বাধাগ্রস্ত করেছে; আপনারাও তাদের তালিকা করুন। অতি উৎসাহী পুলিশ যারা দেশ, সংবিধান ও পুলিশের আইন লঙ্ঘন করছে, তাদের বিষয়টিও আমরা মাথায় রাখছি। কারণ, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বেশি দিন টিকে থাকা যায় না।’ তিনি বলেন, ‘এই যে মহাসমাবেশ হয়েছে, আমাকে একটি উদাহরণ দিতে পারবেন, বিএনপির একজন নেতাকর্মী উচ্ছৃঙ্খলতা দেখিয়েছে কিংবা সহিংসতা করেছে। কেউ দিতে পারবে না। আমাদের নেতাকর্মীদের যে ধৈর্য সেটাকে স্যালুট করতে হবে।’

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশটি চট্টগ্রামে এ সময়ে সবচেয়ে বড় সমাবেশ। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনার জন্ম নিয়েছিল, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিপক্ষ গণবিরোধী শক্তি যারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে, সেই রেজিম এবং রেজিমের শক্তিকে বাধাগ্রস্ত করার অব্যাহতভাবে চেষ্টা করেছে। সে জন্য দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের পক্ষ থেকে যারা সবকিছু উপেক্ষা করে গতকালের (বুধবার) সমাবেশকে মহাসমাবেশে পরিণত করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই রেজিম ক্ষমতা দখল করে বসে আছে, গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার যে সংস্কৃতি এই রেজিমের আছে। সেটা আমরা প্রত্যাশা করিনি তা নয়। এদের রাজনীতি হচ্ছে বাধা দেওয়া। নিজেরা কিছু করতে পারে না, জনগণের কাছে যাওয়ার তো তাদের সুযোগ নেই, তারা তো জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সুতরাং বাধাগ্রস্ত করেই তাদের ক্ষমতায় থাকতে হবে। গতকাল (বুধবার) প্রতিফলন ঘটেছে সেটার, তার আগের দিনও হয়েছে। কিছু কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে রাতে রেইড করেছে, অনেককে গ্রেপ্তার করেছে। পরে বুধবার আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী অনেক জায়গায় আক্রমণ চালিয়েছে। চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বারে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর আঘাত করেছে, গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছে, পুলিশ বন্ধ করেছে, মোবাইল কোর্ট বসিয়েছে, আক্রমণ করেছে, গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমাদের নেতাকর্মীদের অফিস ভাঙচুর করেছে বাধাগ্রস্ত করার জন্য যা যা করা দরকার তারা কোনোটাই বাদ রাখেনি। আমরা কিন্তু আমাদের নেতাকর্মীদের বলেছিলাম, এদিক-সেদিক কর্ণপাত না করে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যান।’

কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও গণসমাবেশের সমন্বয়কারী মাহবুবের রহমান শামীমের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ভিপি জয়নাল আবেদীন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন প্রমুখ।