আজ ঢাকায় গাইবেন সুমন

জাতীয় জাদুঘরে কবীর সুমনকে গান পরিবেশনের অনুমতি না দেওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে তাকে গান পরিবেশনের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আজ শনিবার থেকে ভারতীয় এ সংগীতশিল্পীর গানের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এ কে এম হাফিজ আক্তার।

এর আগে জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল আয়োজকদের, টিকিটও বিক্রি করা হয়েছে। এরই মধ্যে কবীর সুমনও ঢাকায় পৌঁছেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জাতীয় জাদুঘরকে অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) উল্লেখ করে সেখানে কবীর সুমনের মতো জনপ্রিয় শিল্পীর অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি ডিএমপি।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কবীর সুমনের গান গাওয়া নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু জাতীয় জাদুঘর কেপিআইভুক্ত এলাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে একজন জনপ্রিয় বিদেশি শিল্পী গান পরিবেশন করবেন। ভিড় হবেই। সাধারণ কোনো অনুষ্ঠান হলে আমরা অনুমতি দিতাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ভেন্যু হিসেবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করার জন্য আমাদের কাছে অনুমতি চেয়েছে। সেখানে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করার অনুমতি দেওয়া হবে।’

নতুন ভেন্যুতে কবীর সুমনের গানের আয়োজনের বিষয়ে জানাতে গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান পিপহোল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনে আজ বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে কবীর সুমনের গান পরিবেশন। এর আগে মিলনায়তনের ফটক খোলা হবে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে। জনপ্রিয় এ শিল্পীকে নিয়ে করা আয়োজনের বিষয়ে ভক্তদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কমতি নেই। নতুন ভেন্যুতে সাউন্ড সিস্টেমের মান নিয়ে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে আয়োজকরা বলেছেন, এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। সেখানে অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পিপহোলের কর্মকর্তা ফুয়াদ বিন ওমর বলেন, ‘অনুষ্ঠানের জন্য আমরা অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম আনব। তা ছাড়া দেশসেরা সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার থাকবেন ব্যবস্থাপনায়। ফলে সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। দর্শকদের একটা ভালো অনুষ্ঠান উপহার দিতে সবরকম চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবার সহযোগিতায় সুমনের গান নিয়ে দারুণ অনুষ্ঠান হবে বলে আশা করছি। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।’

নিজের বিখ্যাত অ্যালবাম ‘তোমাকে চাই’-এর তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে ১৩ বছর পর কোনো সংগীত আয়োজনে ঢাকায় এসেছেন কবীর সুমন। তিন দিনব্যাপী বেঙ্গল ক্ল্যাসিক টি নিবেদিত ‘তোমাকে চাই-এর ৩০ বছর উদযাপন সুমনের গান ও বাংলা খেয়াল’ শিরোনামের এ আয়োজনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আজ আধুনিক বাংলা গান, ১৮ অক্টোবর বাংলা খেয়াল ও ২১ অক্টোবর আধুনিক বাংলা গান পরিবেশনের কথা রয়েছে এ শিল্পীর। এ আয়োজন ঘিরে কবীর সুমনের ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। গত শুক্রবার টিকিট ছাড়া হয়। টিকিট নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ দেখা গেছে। মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে আধুনিক বাংলা গানের দুদিনের শোর সব টিকিট বিক্রি হয় এবং বাংলা খেয়ালের টিকিটও বিক্রি শেষের পথে বলে জানান আয়োজকরা।

গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন কবীর সুমন। এর আগে গানের আয়োজন নিয়ে একটি ভিডিও বার্তায় কবীর সুমন বলেন, ‘এ আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশের নবীনদের মধ্যেও খুব উৎসাহ রয়েছে বলে জানালেন আয়োজকরা। এটা আমার খুব ভালো লাগছে।’

এর আগে নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসে গান করেছিলেন কবীর সুমন, তখন কোনো পারিশ্রমিক নেননি। ২০০৯ সালে সবশেষ ঢাকায় এসেছিলেন তিনি।

সংগীতের বাইরে ৭৩ বছরের জীবনে সাংবাদিকতা ও অভিনয়ও করেছেন কবীর সুমন। নন্দীগ্রাম গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিজমি রক্ষার ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যোগদান ও সেই সূত্রে সক্রিয় রাজনীতিতে তার আবির্ভাব ঘটে। ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লোকসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

গত ৯ অক্টোবর ফেইসবুকে আপলোড করা ১৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের এক ভিডিওবার্তায় কবীর সুমন বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার মুক্তমনে সাহায্য না করলে এ আয়োজন সম্ভব হতো না। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার অন্ত নেই।’

ভিডিওতে জাতীয় জাদুঘর কর্র্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বিভাগের কাছেও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। সুমন বলেন, ‘আমার জন্ম ১৯৪৯ সালে ভারতের ওড়িশা রাজ্যের কটক শহরে ঘাটছড়ি নদীর ধারে। ১৯৯২ সালে ৪৩ বছর বয়সে তোমাকে চাই নামের গানের অ্যালবাম বের হয়। বর্তমানে আমার বয়স ৭৩ বছর। শুধু আধুনিক গান নয়; আমার জীবনের সেরা কাজ হচ্ছে বাংলা খেয়াল। আমার ধারণা, আমি আমার পেশার প্রতি সুবিচার করতে পারব।’