বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশে গুম-খুনের দায়ে শুধু র্যাবের ওপর নয়, এ জন্য সরকার দায়ী, সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রয়োজন।’ গতকাল শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতিপাড়ার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামী দ্বাদশ নির্বাচন যদি আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে হয়, তাহলে নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না।’
বাংলাদেশে একনায়কতন্ত্র শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘এ কথাটা তো আগে শুধু আমরাই বলতাম, কিন্তু এখন তাদের সহযোগী দল জাতীয় পার্টির প্রধান জি এম কাদের সাবেহও বলেছেন।’
বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই একটি ডেমোক্রেসি লিবারেল পার্টি হিসেবে বিএনপি যতটা সম্ভব কাজ করার চেষ্টা করছে জানিয়ে ফখরুল আরও বলেন, ‘দুই-তিন বছর ধরে যে আমরা আন্দোলনগুলো করছি। সেই প্রতিটি আন্দোলনই জনসম্পৃক্ত। আমরা আন্দোলন করছি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এবং জনগণের সমস্যাগুলো নিয়ে। ইতিমধ্যে আমরা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে দেশব্যাপী আমাদের কর্মসূচি নিয়ে গিয়েছি। এই কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে বিভাগীয় পর্যায়ে মহাসমাবেশ করছি। চট্টগ্রামে আমরা বিভাগীয় সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করেছি; কিন্তু সেই সমাবেশেও আমাদের নেতাকর্মীদের আক্রমণ করা হয়েছে, গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শনিবার ময়মনসিংহে আমাদের একটা সমাবেশ আছে। সেখানেও আওয়ামী লীগ সমাবেশ ডেকেছে। যেখানে আমাদের আগে থেকেই সমাবেশর ঘোষণা দেওয়া ছিল। আর সেখানে আওয়ামী লীগের সমাবেশ ডাকার অর্থই হচ্ছে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। সন্ত্রাস তারাই সৃষ্টি করে। তারাই আজ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে ও ধ্বংস করার কাজ করে চলেছে এবং সেটা তারা রাষ্ট্রের সহযোগিতা নিয়ে করছে। এখন তারা রাষ্ট্রকেও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করছে। সে ক্ষেত্রে আমরা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য সংগ্রাম ও লড়াই করছি। এই সংগ্রাম, লড়াই ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এবার কোনো বাধাই আমাদের বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।’
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি পয়গাম আলী, জেলা কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, যুবদলের সভাপতি মহেবুল্লাহ আবু নুরসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।