গাইবান্ধা-৫ আসনে উপনির্বাচনে ভোট যেসব অনিয়মের কারণে বন্ধ করা হয়েছিল, সেসব অনিয়ম তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর গাইবান্ধা-৫ আসনের পরবর্তী নির্বাচন বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত এ কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ইসির যুগ্ম সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস ও শাহেদুন্নবী চৌধুরী। গতকাল শুক্রবার ইসি সূত্র এ তথ্য জানায়।
ইসি জানায়, নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়ম খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। এ কমিটি আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিলে গাইবান্ধা-৫ আসনের ভোটের বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেবে ইসি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, নির্বাচনের অনিয়মগুলো তদন্ত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর গাইবান্ধা-৫ আসনের পরবর্তী নির্বাচন বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত বুধবার সকাল ৮টায় গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটের দিন দুপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চারজন প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এরপর গোপন বুথে ঢুকে ভোট নেওয়াসহ নানা অনিয়ম সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখে নির্বাচন কমিশন একে একে ৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে। এরপর দুপুর ২টার দিকে উপনির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
স্থগিত করা কেন্দ্র বাদে বাকি কেন্দ্রগুলোর ফল ঘোষণার দাবিতে ভোটের দিন বিকেল থেকে আন্দোলন করে আসছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলটির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাহমুদ হাসান। অন্য চার প্রার্থী হলেনÑ জাতীয় পার্টির (জাপা) এএইচএম গোলাম শহীদ, বিকল্পধারার জাহাঙ্গীর আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান ও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। চারজনই ভোট বর্জন করেছেন।
এ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া গত ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে ইসি।