ময়মনসিংহে শনিবারের বিভাগীয় সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। ইতিমধ্যে সাতটি জেলা ইউনিট ও উপজেলা কমিটির প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করা হয়েছে।
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঙ্গা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ও জেলাসমূহের নেতারা বক্তব্য দেবেন।
বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বিএনপি। মতবিনিময়কালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা কারও শত্রু নই, আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। কারও সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্ব নেই। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সমাবেশ করতে চাই। এ জন্য আমরা প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা কামনা করছি। সংবিধানের সবটুকু অধিকার আমরা পেতে চাই।’ তিনি জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা সব বাধা অতিক্রম করে নিজ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হোন।’
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘শুনেছি আমাদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমরা অনেক দিন আগে আমাদের সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছি। সেটি প্রচার হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সমাবেশ ডাকার মানে উসকানি দেওয়া। যেহেতু আমরা আগে সমাবেশ ডেকেছি, সে কারণে আমরা মাঠের ব্যাপারে আমাদের সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখি।’
এদিকে গতকাল বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাবেশ করার জন্য নগরীর মাসকান্দা এলাকায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সমাবেশের দিন পথে পথে যদি বাধা প্রদান করা হয় তাহলে এ সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে। যেখানেই বাধা আসবেই সেখানেই বিএনপির সমাবেশ মঞ্চ হয়ে যাবে।’
অন্যদিকে একই দিনে আওয়ামী লীগ নগরীর কৃষ্ণচূড়া চত্বরে জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশ কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা বা জানমালের ক্ষতির চেষ্টা করা হলে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করব, কিন্তু বিএনপি যদি কোনো দেশবিরোধী বক্তব্য ও জনগণের জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাহলে আমরা আমাদের সমাবেশ থেকে বিএনপিকে প্রতিহত করার সব প্রস্তুতি নেব।’
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ অভিযোগ করে জানান, সমাবেশ কেন্দ্র করে তার বাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সমাবেশে যেন নেতাকর্মীরা আসতে না পারে সে জন্য ময়মনসিংহ থেকে বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও সিএনজি, মাহিন্দ্রসহ অন্যান্য ছোট ছোট যান চলাচলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
খুলনায় প্রস্তুতি সভা : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^রচন্দ্র রায় বলেছেন, ‘জনগণের দাবি, তারা নিজের ভোট নিজে দিতে চায়। এটা কোনো রাজনৈতিক দলের দাবি না, জনগণের দাবি।’
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে অনুষ্ঠিত খুলনা বিভাগীয় সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ২২ অক্টোবর খুলনা বিভাগীয় গণসমাবেশ উপলক্ষে বিভাগীয় বিএনপি এই সভার আয়োজন করে।
গয়েশ^রচন্দ্র রায় বলেন, বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকার নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করতে পারে। বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা আসবে। যদি এমন কোনো বাধা অতিক্রম করতে কষ্ট হয়, যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই যুদ্ধ করতে হবে।
জনগণ নির্বাচন চায় অবাধ এবং সুষ্ঠু উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেটা বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে সম্ভব না। গাইবান্ধার উপনির্বাচন তারই প্রমাণ। গাইবান্ধায় আবারও প্রমাণ হয়েছে, এই সরকারের হাতে ন্যূনতম ক্ষমতা থাকা অবস্থায় কোনো নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। কেউ কেউ বলছে, নির্বাচন কমিশন যে সৎ, সেটা প্রমাণ করার জন্য সম্ভবত এই নির্বাচন স্থগিত করেছে। পাশাপাশি তাদের অক্ষমতাও পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত। সুতরাং আমাকেও যদি নির্বাচন কমিশনের প্রধান করা হয়, আমি নিজের ভোটটা দিতে পারব কি না, সন্দেহ।’
তিনি বলেন, ‘মূল দাবি যদি আমরা আদায় করতে চাই, তাহলে এই সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে, সরকারের পতন নিশ্চিত করতে হবে। একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। সেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পরে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা অতিসত্বর প্রত্যাহার করতে হবে।’
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মান-অভিমান ভেঙে জনসভায় একত্র করবেন। বিভাগে একটি গণজোয়ার সৃষ্টি করবেন। যদি গণজোয়ার সৃষ্টি হয়, সেই জোয়ারেই ভেসে যাবে আওয়ামী লীগ, দুর্বৃত্তায়ন অথবা পুলিশের অতিউৎসাহী কর্মকান্ড।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনাসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব।