সাধারণ আইনে একজন প্রকল্প পরিচালকের সর্বোচ্চ ৫৭ লাখ টাকার গাড়ি কেনার বিধান রয়েছে। কিন্তু কর্মকর্তারা তাদের প্রকল্প পরিচালকের জন্য আবদার করেছেন ৯০ লাখ টাকার গাড়ি। অর্থনৈতিক সংকটে বিদেশে ভ্রমণ বা প্রশিক্ষণে নিরুৎসাহিত করছে সরকার। তবুও বিদেশ ভ্রমণে যেতে চাইছেন সরকারি কর্মকর্তারা। বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে বিলাসী ব্যয়ের এমন চিত্র উঠে এসেছে মৃত্তিকা ইনস্টিটিউটের ‘মাটির ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং মাটির ধরন বুঝে ফসল ফলানোর মাধ্যমে পাহাড়ি মাটিতে চাষাবাদ’ শীর্ষক প্রকল্পে।
মৃত্তিকা বা মাটির ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং মাটির ধরন বুঝে ফসল ফলানোর মাধ্যমে পাহাড়ি মাটিতে চাষাবাদ বাড়াতে ৪৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকার প্রকল্প নিচ্ছে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। প্রকল্পটিতে বেশ কিছু খাতে অস্বাভাবিক ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুন নাগাদ বাস্তবায়ন করবে ইনস্টিটিউট।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য অন্য অঞ্চল থেকে একেবারেই আলাদা। বর্ষায় অতিবৃষ্টির কারণে ব্যাপক ভূমিক্ষয় ও ভূমিধস হয়। এতে মাটির জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান কমে যায়। তাই গবেষণার মাধ্যমে পাহাড়ি মাটি ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা প্রয়োজন।
তবে প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা চাষাবাদ ও ভূমি ব্যবস্থাপনা শিখতে ৬০ লাখ টাকার বৈদেশিক প্রশিক্ষণের আবদার করা হয়েছে। আবার প্রকল্প পরিচালকের জন্য একটি জিপ গাড়ি কেনা বাবদ ৯০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। পিকআপ কিনতেও ৫৪ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। অথচ প্রকল্প পরিচালকের (গ্রেড-৪ এর কর্মকর্তা) জন্য সর্বোচ্চ ৫৭ লাখ টাকার গাড়ি কেনার বিধান রয়েছে।