উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু, এক দিনে আরও ৬ মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ৭৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময় মারা গেছে আরও ৬ জন। এ নিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে ২৪ হাজার ৩২৬ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং মারা গেছে ৮৯ জন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক দিনে সর্বোচ্চ ৭৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ দিনই এ বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৮ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মাসের ১৫ দিনে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮ হাজার ২৩৪ জন। এ সময় মারা গেছে ৩৪ জন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৯ হাজার ৯১১ জন ও মারা যায় ৩৪ জন। আগস্টে হাসপাতালে  ৩ হাজার ৫২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল ও মারা গিয়েছিল ১১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ৪৬৮ জন ঢাকায় ও ২৬৬ জন ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২ হাজার ৮৮৯ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকার ৫০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ১ হাজার ৯৯২ জন। ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮৯৭ জন। এ বছর সবচেয়ে বেশি ১৭ হাজার ৯২৪ জন ডেঙ্গু রোগী রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ৪০২ জন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক সংবাদ সম্মেলনে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে। সেখানে বলা হয়, রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরায় ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি রাজধানীর মুগদা, যাত্রাবাড়ী ও কেরানীগঞ্জ থেকেও অনেক রোগী হাসপাতালে আসছে। ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। একক জেলা হিসেবে ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে কক্সবাজারে। এখন পর্যন্ত যত রোগী মারা গেছে, তাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি। হাসপাতালে আসার তিন দিনের মধ্যে বেশি মারা যাচ্ছে।

ওই সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এটি কমছে না। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার জন্য চিকিৎসক ও লোকবলসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার ওপর জোর দিচ্ছি। এ বছর আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, রোগীরা হাসপাতালে এসেই শকে চলে যাচ্ছে। ডেঙ্গু রোগটা আমাদের দেশে অনেক দিন ধরে আছে। সবাই কোনো না কোনো স্ট্রেইনে আক্রান্ত হয়েছে। দ্বিতীয়বার যখন আক্রান্ত হচ্ছে তখন দেখা যাচ্ছে সে শকে চলে যাচ্ছে। জ্বর কমে যাওয়ার পর কঠিন সময় শুরু হয়, তখন শরীরের তরল ব্যবস্থাপনাটা ঠিকঠাক করতে হবে।’