বাধ্যতামূলক অবসরে তথ্য সচিব মকবুল

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। গতকাল রবিবার তাকে অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ঘটনাটি ছিল আকস্মিক এবং খুব কম কর্মকর্তাই এ সম্পর্কে জানতেন। নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগের অনেক কর্মকর্তাও বিষয়টি জানতেন না। তথ্য সচিব অন্যান্য দিনের মতো গতকাল তার কর্মস্থলে যান। কর্মরত অবস্থায় তিনি জানতে পারেন বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর খবর। বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিজের দপ্তরেই ছিলেন তিনি। অসম্পন্ন কাজ শেষ করে তিনি দপ্তর ছেড়ে যান।

তথ্য সচিব বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১০ ব্যাচের কর্মকর্তা। ওই ব্যাচের অপর একজন সচিব জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় থেকে কৃষি অর্থনীতিতে স্নাতক ও ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বিশ^বিদ্যালয়জীবনে ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন।

২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ ছিল মকবুল হোসেনের; অর্থাৎ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অবসরে যাওয়ার ১ বছর ৯ দিন আগেই তাকে বাধ্য করা হয়েছে অবসরে যেতে।

গত বছরের ৩১ মে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে যোগ দেন মকবুল হোসেন। এর আগে তিনি যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরে রেজিস্ট্রার ছিলেন। ১৯৯১ সালে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন।

বাধ্যতামূলক অবসরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. মকবুল হোসেনকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’

সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারায় বলা আছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পর সরকার যেকোনো সময় জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় মনে করলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই কাউকে চাকরি থেকে অবসর দিতে পারবে।

সচিবের বাধ্যতামূলক অবসরের বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘অর্ডার হয়েছে শুনেছি, কেন হয়েছে জানি না।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) মো. আব্দুস সবুর মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, ‘কারও চাকরির ২৫ বছর পূর্তি হলে সরকার তাকে অবসরে পাঠাতে পারে।’ মকবুল হোসেনকে কেন অবসরে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।