হাত-পা বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ প্রতিবন্ধীকে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক বাকপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে স্বামীসহ শ^শুরবাড়ির লোকজন। তার নাম কাজল রেখা। গতকাল রবিবার সকাল ৬টার দিকে নদী থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন নৌকার মাঝিরা। ঘটনার পর থেকেই স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক।

কাজল রেখার বোন আলেয়া বেগম অভিযোগ করে জানান, প্রায় সাত বছর আগে পিতলগঞ্জ এলাকার মিব্বর আলীর ছেলে জুলহাস মিয়ার সঙ্গে কাজল রেখার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ১ লাখ টাকা, এক ভরি স্বর্ণ, সেলাই মেশিনসহ আসবাবপত্র তার বোনজামাইকে দেওয়া হয়। তাদের সংসারে চার বছরের মেয়েসন্তান রয়েছে। এর মধ্যে গত কয়েক মাস ধরেই কাজল রেখাকে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল স্বামী জুলহাসসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তারা তাকে একাধিকবার নির্যাতন করে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ হয়। নির্যাতনের কথা শুনে গত শনিবার বিকেলে স্বামীর বাড়ি পিতলগঞ্জ থেকে মেয়ে কাজল রেখাকে আনতে যান তাদের মা আকলিমা বেগম। পরে মায়ের কাছে কাজল রেখাকে দেয়নি স্বামীসহ শ^শুরবাড়ির লোকজন। গতকাল ভোর ৬টার দিকে পিতলগঞ্জ এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীতে বাকপ্রতিবন্ধী কাজল রেখার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেহ ভাসতে দেখে নৌকার মাঝি মুনসুর মিয়া স্থানীয়দের সহযোগিতায় গিয়ে উদ্ধার করেন এবং দেখতে পান জীবিত রয়েছে। পরে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, ঘটনার ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে যৌতুক না পেয়ে নাসিমা নামে আরেক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার রাতে উপজেলার আতলাপুর এলাকায় ঘটে এ নির্যাতনের ঘটনা।

গৃহবধূ নাসিমা আক্তার অভিযোগ করে জানান, তিনি উপজেলার চারিতালুক এলাকার সহিদুল্লাহ মাস্টারের মেয়ে। পাশর্^বর্তী আতলাপুর এলাকার রেহান উদ্দিনের ছেলে শরীফ উদ্দিনের সঙ্গে নাসিমা আক্তারের প্রেম করে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১৪ বছরের এক মেয়েসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই শাশুড়ি ও ননদসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তাদের নির্যাতনের কারণে একমাত্র মেয়ে সিনহা আক্তারকে বাল্যবিয়ে দেন তিনি। শনিবার রাতে শাশুড়ি ফুল মেহের ও ননদ রোজিনা আক্তার মিলে নাসিমাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এসে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।