রাশিয়ার সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গুলি, নিহত ১১

রাশিয়ায় একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বন্দুক হামলায় কমপক্ষে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, গত শনিবার রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম বেলগোরোদ এলাকায় ইউক্রেন সীমান্তে এ ঘটনা ঘটেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলাকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করেছে। যদিও রাশিয়ার কয়েকটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়েও অনেক বেশি।

রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, স্বেচ্ছায় যুদ্ধে যোগদানকারী একটি দলের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই দলেরই দুই স্বেচ্ছাসেবী সৈনিকের হামলায় ১১ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। রুশ সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী দুই হামলাকারী সাবেক সোভিয়েত একটি দেশের নাগরিক। স্বেচ্ছায় সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়ে তারা প্রশিক্ষণে অংশ নেন। হামলার পরে তাদেরও পরে গুলি করে হত্যা করা হয়।

গতকাল রবিবার সকালে এক ভিডিও বার্তায় বেলগোরোদ এলাকার গভর্নর ব্যাচেসøাভ গ্ল্যাডকভ বলেন, ‘আমাদের ভূখ-ে সামরিক ইউনিটে ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে। অনেক সেনা আহত হয়েছেন, অনেকে নিহত হয়েছেন।’ এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বেচ্ছায় বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশ নিতে আগ্রহীদের আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণের সময় ছোট অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর গুলি চালায় দুই হামলাকারী।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উপদেষ্টা ওলেক্সি আরেস্টোভিচ ইউটিউবে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, হামলাকারীরা মধ্য এশিয়ার দেশ তাজিকিস্তানের এবং ধর্মসংক্রান্ত বাকবিতণ্ডার পর বাকিদের ওপর তারা গুলি চালায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ওলেক্সিকের এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তাজিকিস্তানে প্রায় অর্ধেক রুশই খ্রিস্টধর্মের বিভিন্ন ধারার অনুসারী। রাশিয়ার দাবি, হামলাকারীরা কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটসের (সিআইএস) একটি দেশের নাগরিক। তাজিকিস্তানসহ সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের ৯টি দেশ রয়েছে এই জোটে।