চাঁদপুরে জেলেদের হামলায় ৬ নৌ-পুলিশসহ আহত ৯

চাঁদপুরের মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে অভিযান চলাকালে নৌ-পুলিশের ওপর জেলেদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার রাতে সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর এলাকায় মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য এবং পুলিশের সঙ্গে থাকা তিনজন শ্রমিক আহত হন। এ সময় পুলিশের লাঠিপেটায় ৯ জেলে আহত হন। আহতদের চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পাঁচ জেলেকে আটক করেছে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন চাঁদপুর নৌ-থানার উপপরিদর্শক রেদওয়ান আহমেদ, এএসআই আলী আকবর বাবুল, শামীম আজম, কনস্টেবল শরিফুল, মো. আলিশ ও বখতিয়ার। পুলিশের সঙ্গে থাকা আহত শ্রমিকরা হলেন আবদুল কাইয়ুম, সাকিব পাটোয়ারী ও আল-আমিন।

আহত জেলেরা হলেন ইমরান সরকার, শাহজালাল, ওয়াচকুরুনী, রাজীন প্রধানীয়া, কামরুল মাল, আল-আমিন, হানিফ, মাসুদ ও জাহিদ।

জেলে ইমরান সরকার বলেন, ‘আমরা মতলব উত্তর উপজেলার শ্রীরায়েরচর ঘাট থেকে সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লক্ষ্মীরচরে নদীতে মাছ ধরতে যাই। আমাদের নৌকার সামনে থাকা অন্য একটি নৌকা থেকে পুলিশের ওপর হামলা করে পালিয়েছে। পরে পুলিশ ওই নৌকাকে ধাওয়া করে ধরতে না পেরে আমাদের নৌকা থামাতে বললে আমরা নৌকা থামাই। এ সময় হঠাৎ করে নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড আমাদের মারধর করতে শুরু করে। এতে আমরা আহত হই। আমাদের মধ্যে আল-আমিন, হানিফ, মাসুদ ও জাহিদ পানিতে লাফিয়ে পালিয়ে যায়।’

এ ব্যাপারে চাঁদপুর নৌ-থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় রাতে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে যৌথ অভিযানে যায় নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড। এ সময় লক্ষ্মীরচরে জেলেরা হঠাৎ আমাদের ওপর হামলা চালায়। জেলেদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে আমরা ইমরান সরকার, শাহজালাল, ওয়াচকুরুনী, রাজীন প্রধানীয়া, কামরুল মাল নামে পাঁচ জেলেকে আটক করতে সক্ষম হই। এ ঘটনায় জড়িত আরও চার জেলে পানিতে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যায়।’ ওসি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নৌ-পুলিশের অভিযানে ২৬ জেলেসহ ৩১ জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়। অভিযানে ৮৩ লাখ মিটার কারেন্ট জালসহ চারটি মাছধরা নৌকা জব্দ করেছে পুলিশ।

অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম ফখরুল, নৌ-থানা পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার সফরমালি এলাকায় জেলেদের হামলায় এক পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৫০ জনকে আসামি করে মামলা করে নৌ-থানার পুলিশ।