ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ আক্রান্তের দিনে চিকিৎসকের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গত রবিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) এ বছরের সর্বোচ্চ ৮৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে মারা গেছে আরও দুজন; তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসকও আছেন। এর আগে গত রবিবার এক দিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সেদিন মৃত্যু হয়েছিল ৫ জনের। এ নিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে ২৬ হাজার ৩৮ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং মারা গেছে ৯৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মাসের ১৭ দিনে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯ হাজার ৯৪৬ জন। এ সময়ে মারা গেছে ৪১ জন। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৯ হাজার ৯১১ জন ও মারা যায় ৩৪ জন। গত আগস্টে হাসপাতালে ৩ হাজার ৫২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল ও মারা গিয়েছিল ১১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ৫২৩ জন ঢাকায় ও ৩৩৪ জন ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩ হাজার ৪ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকার ৫১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ২ হাজার ১৫ জন। ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৯৮৯ জন। এ বছর সবচেয়ে বেশি ১৮ হাজার ৯৭০ জন ডেঙ্গু রোগী রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭ হাজার ৩৬ জন।

এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আসাদ শিকদার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খায়রুল আনাম বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে ডা. আসাদ শিকদার অসুস্থ ছিলেন। পরে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত রবিবার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিলেও আর ফিরে আসেননি তিনি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ডা. আসাদ শিকদার ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরে ৩৩তম বিসিএসের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ফেজ-বি রেসিডেন্ট হিসেবে ডেপুটেশনে ছিলেন তিনি।

গতকাল সোমবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক শোকবার্তায় বলেছেন, গত রবিবার রাতে ডা. আসাদ শিকদার চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুর কারণ সাসপেক্টেড ডেঙ্গু এনসেফালাইটিস। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শোকাহত।