শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে বই লিখে বুকার পেলেন দেশটির লেখক শেহান করুণাতিলকা। অতিপ্রাকৃতিক কাহিনী নিয়ে লেখা বিদ্রুপাত্মক উপন্যাস ‘দ্য সেভেন মুনস অব মালি আলমেডা’র জন্য তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন। গত সোমবার লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে শেহানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ব্রিটেনের কুইন অব কনসর্ট ক্যামিলা।
বিবিসি জানাচ্ছে, শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা শেহান করুণাতিলকার উপন্যাসটি। কেন্দ্রীয় চরিত্র মৃত একজন আলোকচিত্রী; যিনি শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের মধ্যে মারা যান এবং জেগে ওঠেন মহাজাগতিক কোনো এক ভিসা অফিসে। সেখান থেকে সাতটি চাঁদের মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন তার তোলা ছবি খুঁজে বের করার জন্য। পরে সেসব ছবি প্রকাশ করে কাঁপিয়ে দেন শ্রীলঙ্কাকে। মালি আলমেডা নামের সেই আলোকচিত্রীকে ঘিরে এগিয়ে চলে বইয়ের কাহিনী।
কেবল যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত ইংরেজি ভাষার ‘ফিকশন’ বুকার পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয়। বুকারজয়ী লেখক পান ৫০ হাজার পাউন্ড। আর সংক্ষিপ্ত তালিকায় আসা বাকি পাঁচ লেখককে আড়াই হাজার পাউন্ড করে দেওয়া হয়। পুরস্কার পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় করুণাতিলক বলেন, এ পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নাম আসাই ছিল তার জন্য এক বিরাট সম্মান। তিনি বলেন, করুণাতিলক বলেন, শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের অবসানের পর যখন তার দেশে বিতর্ক চলছিলওই যুদ্ধে কত বেসামরিক মানুষের প্রাণ গেছে, সেই হত্যার দায় কারতখন, ২০০৯ সালে তিনি ঠিক করেন, একটি ভূতের গল্প লিখবেন, যেখানে মৃত ব্যক্তি তার নিজের মতামত দিতে পারবে। করুণাতিলক বলেন, আমি শুধু এটুকুই আশা করি, সেইদিন হয়তো বেশি দূরে নয়, যখন শ্রীলঙ্কা বুঝতে পারবে যে, এসব দুর্নীতি, জাতিগত বিভাজন এবং স্বজনপ্রীতির বিষয়গুলো ভালো কিছু দেয়নি আর কখনো তা দেবেও না।
বইটির প্রশংসায় বুকার পুরস্কারের বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি নেইল ম্যাকগ্রেগর বলেন, করুণাতিলকের এই উপন্যাস যেন এক পারলৌকিক পরিহাস, তার লেখা পাঠককে জীবন আর মৃত্যুর মাঝে চমকপ্রদ এক রোলারকোস্টারে ভ্রমণ করিয়ে আনে।
দ্য সেভেন মুনস অব মালি আলমেদা করুণাতিলকের দ্বিতীয় উপন্যাস। প্রথম বইটি লেখার পর তিনি অপেক্ষা করেছেন দশ বছর। আসলে তিনি একজন আন্তর্জাতিক প্রকাশক খুঁজছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষা তাকে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক পুরস্কার এনে দিয়েছে। করুণাতিলকের প্রথম বই চায়নাম্যান কমনওয়েলথ ব্যায়ক প্রাইজ জিতে নেয়। উইজডেন বইটিকে বর্ণনা করেছিল ক্রিকেট নিয়ে লেখা বইয়ের ইতিহাসের দ্বিতীয় সেরা হিসেবে।