মালয়েশিয়ার পেনাং বন্দরে খালি কনটেইনারে মানুষের গলিত লাশ পাওয়া নিয়ে চলছে তোলপাড়। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে যাওয়া কনটেইনারে এ লাশ পাওয়া গেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার কাছ থেকে চিঠি পেলে তদন্ত করে দেখা হবে।
বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, কনটেইনারের মধ্যে পাওয়া লাশটি যে এখান থেকে উঠেছে, তার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে। ১৪ অক্টোবর মালয়েশিয়ার পেনাং বন্দরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে যাওয়া খালি কনটেইনারে একটি গলিত লাশ পাওয়া যায়। বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয় এবং লাশটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে গলে যাওয়ার কারণে লাশটি কোনোভাবেই শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই। পরে তা মালয়েশিয়া পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
সেখানকার গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রচার হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, পেনাং বন্দরে যে কনটেইনারে লাশ পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটি চট্টগ্রামের আলোচিত বিএম কনটেইনার ডিপো থেকে পাঠানো। তবে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে কনটেইনারে মানুষ প্রবেশের কোনো নমুনা দেখা যায়নি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা অফিশিয়ালি এখনো কিছু জানি না। পেনাং বন্দর কর্তৃপক্ষও আমাদের কাছে এ-সংক্রান্ত কোনো চিঠিপত্র পাঠায়নি। চিঠি পেলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করব।’ তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনারে মানুষ প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। পেনাং বন্দর থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি বলেও জানান বন্দর সচিব।
বিএম কনটেইনার ডিপোর নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন মঈনুল আহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি কনটেইনার ডিপো থেকে পাঠাচ্ছি।’ প্রতিটি খালি কনটেইনার পাঠানোর আগে তল্লাশি করা হয় এবং ছবি তুলে রাখা হয় বলে জানান তিনি।
বন্দর সূত্র জানায়, বিএম কনটেইনার ডিপো থেকে ৪ অক্টোবর ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যরে কনটেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। অন্যান্য কনটেইনারের সঙ্গে আলোচিত কনটেইনারটি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সিনোকের শিপিং লাইনসের ‘এমভি সোয়াদসি আটলান্টিক’ জাহাজ ৬ অক্টোবর মালয়েশিয়ার পেনাং বন্দরের উদ্দেশে চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করে। ১০ অক্টোবর জাহাজটি পেনাং বন্দরের জেটিতে ভেড়ে। এরপর কনটেইনারটি বন্দরে নামানো হয়। ১৪ অক্টোবর পেনাং বন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা ওই কনটেইনার খুলে তল্লাশি করে গলিত লাশ খুঁজে পান।
সিনোকের শিপিং লাইনসের বাংলাদেশি এজেন্ট গ্লোব লিংক অ্যাসোসিয়েটস। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লাশটির পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু এখনো পাওয়া যায়নি।’
বন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, পেনাং বন্দরে কনটেইনারে প্রাপ্ত লাশটি বাংলাদেশ থেকে গেছে কি না, সেটা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়িয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অতীতেও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনারে করে মানুষ যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেগুলোর সঠিক কোনো সুরাহা পরে আর হয়নি। যেহেতু এর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তির বিষয়টি জড়িত, তাই বন্দর কর্তৃপক্ষ, শিপিং এজেন্ট, ডিপো কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গ বসে এ ব্যাপারে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্তে আসতে হবে।’