সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশনার (ইসি), সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন। আজ বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সভাকক্ষে এ বৈঠক হওয়ার কথা। এতে অংশ নিতে সাবেক সিইসি, সাবেক নির্বাচন কমিশনার, সাবেক ইসি সচিব, সাবেক ঊর্ধ্বতন ইসি কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বৈঠকে গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচন, আগামী জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর জানান, বৈঠকে গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনসহ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। মূলত নির্বাচন করতে গেলে কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এবং তা থেকে উত্তরণে তারা কী পন্থা অবলম্বন করেছিলেন সেসব অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্যই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
সাবেক ইসিদের সঙ্গে বসার কারণ কী জানতে চাইলে ইসি আলমগীর বলেন, ‘ওনারা অভিজ্ঞ। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন পাঁচ বছর। আমাদের কমিশন হিসেবে অভিজ্ঞতা কম। কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকে কাজের ফলে সেগুলো শেখা যায়। এমনিতে আইনকানুন আছে। কখনো কখনো এমন কিছু ঘটে তখন দেখা যায় যে যখন আইন করা হয়েছিল সেগুলোর চিন্তা করা হয়নি। সবকিছু আইনে থাকে না। উনারা এ ধরনের পরিস্থিতিতে কী ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন এবং তারা কীভাবে সেই সমস্যার সমাধান করেছিলেন এ বিষয়ে যেহেতু তারা সিনিয়র ছিলেন, একটু আলাপ করা এবং আমাদের প্রতি তাদের কোনো পরামর্শ আছে কি না।’
গাইবান্ধার বিষয়েই এ আলোচনা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর বলেন, ‘না, সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হবে। তবে সামনের জাতীয় ইলেকশনেরটাই মেইন উদ্দেশ্য। এর আগেও তারা আমাদের সঙ্গে বসেছিলেন। সেখানে তারা আমাদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমরা সেটার সারমর্ম করেছি, দেখলাম কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু কন্ট্রাডিক্টরি আছে। একজনের যে পরামর্শ দিয়েছে আরেকজন তার উল্টোটা দিয়েছে। তখন অনেক স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আমাদের কথা বলতে হয়েছে। তাই আমরা ওনাদের সঙ্গে বেশি সময় দিতে পারিনি। এবার একটু ডিটেইল আলোচনা হবে।’
অর্থনৈতিক চাপের সময়ে নির্বাচন বন্ধ করার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন করা। সেটা সময়ের ওপর নির্ভর করে না।’
আরপিও সংশোধনীর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমরা সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছি। এখন এটা আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তারা দেবেন একটা সময়। হয়তো তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন। আমরা জানি না। যদি আমাদের জানাতেন তাহলে হয়তো জানতাম। যদিও সময় আছে এখনো যথেষ্ট।’
গাইবান্ধায় পরের নির্বাচন কবে হবে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নতুন ইভিএম কেনার প্রজেক্ট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রজেক্ট পাস করার দায়িত্ব প্ল্যানিং কমিশনের। তারা যদি যথাসময়ে এটি পাস করে তাহলে ব্যবহার করা যাবে কারণ এর সঙ্গে ট্রেনিং জড়িত। যথাসময়ে না এলে এ মেশিনে কোনো কাজে আসবে না।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর বলেন, ‘ব্যালট ও ইভিএম দুই ক্ষেত্রেই ডাকাতি আছে। তবে ইভিএমে ভোটার উপস্থিত হতে হবে। তাই উপস্থিত ভোটারের থেকে বাড়তি ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। এটাই ইভিএমের বিশেষত্ব।’