বারান্দা থেকে পড়ে রাবি ছাত্রের মৃত্যু ভাঙচুর রামেকে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ হবিবুর রহমান হলে তিনতলার বারান্দা থেকে পড়ে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে ওই শিক্ষার্থী বারান্দা থেকে পড়ে গেলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ছাত্রকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে শাহরিয়ারকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণার পরপরই তার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ রাবি শিক্ষার্থীরা রামেক হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভাঙচুর চালান। এছাড়া তারা হাসপাতালটির পরিচালকের কক্ষের সামনে গিয়েও ভাঙচুর করে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম শাহরিয়ার (২৬)। তিনি মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন হবিবুর রহমান হলের ৩৫৪ নম্বর কক্ষে। তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায়।

জানা গেছে, গতকাল রাত ৮টার দিকে শহীদ হবিবুর রহমান হলের তৃতীয় ব্লকের তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে পড়ে যান শাহরিয়ার। হলটির আবাসিক শিক্ষার্থী রাশেদুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হঠাৎ অনেক জোরে শব্দ হলে রুম থেকে বাইরে এসে দেখি একজন ওপর থেকে পড়ে গেছে। এরপর আরও কয়েকজন মিলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

বারান্দা থেকে পড়ার পর হলের অন্য ছাত্ররা মিলে আহত অবস্থায় শাহরিয়ারকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রামেক হাসপাতালে নেন। জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর শুনেই ক্ষুব্ধ রাবি শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডে ভাঙচুর চালান। পরে তারা হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষের সামনে গিয়ে ভাঙচুর করেন। সেখানকার বেশকিছু ফুলের টব ভেঙে ফেলা হয়। রাবির শতাধিক শিক্ষার্থী এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা শাহরিয়ারকে দ্রুত জরুরিভাবে আইসিইউতে নিতে বলেন। কিন্তু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে থাকা ব্যক্তিরা তাদের বলেন, আইসিইউতে নিতে চিকিৎসকের রেফারেন্স লাগবে। পরে ওয়ার্ডে শাহরিয়ারের মৃত্যু হলে উত্তেজিত হয়ে তারা ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে রামেক হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামেকের একদল শিক্ষার্থী হাসপাতাল পরিচালকের অফিসের সামনে অবস্থান নেন। দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি সেøাগানে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক। তার সঙ্গে যান বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য। এরপর রাত ১২টার দিকে রাবি ও রামেক কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসে। রাত পৌনে ১টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় সেই আলোচনা চলছিল।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মারা যাওয়া রাবি শিক্ষার্থীর সহপাঠীদের অভিযোগ তার চিকিৎসা ঠিকভাবে হয়নি। এরই প্রতিবাদে তারা হাসপাতালে ভাঙচুর শুরু করে।’