বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী শনিবার খুলনা বিভাগীয় সমাবেশকে সামনে রেখে পরিবহন মালিকরা দক্ষিণাঞ্চলে পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করেছে। তবে সরকারের কোনো প্রতিবন্ধকতাই সমাবেশের জনস্রোতকে রুখতে পারবে না।
গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের দুই শরিক জাতীয় দল ও ইসলামিক পার্টির সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সমাবেশে পরিবহন ধর্মঘটের এতটুকু প্রভাব পড়বে না। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহের সমাবেশে কীভাবে মানুষ এসেছে তা আপনারা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। ট্রলার, নৌকা এবং রিকশায় করে মানুষ জনসভায় অংশ নিয়েছে। ভাড়া ছাড়াই রিকশাওয়ালারা সমাবেশে মানুষজন নিয়ে এসেছিল। এটাই হচ্ছে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। খুলনাতেও ক্ষমতাসীনরা যতই বাধা সৃষ্টি করুক না কেন জনগণ নিজ দায়িত্বে সমাবেশে অংশ নেবেন। আমরা প্রতিবন্ধকতা, হরতাল এমনকি কারফিউ যাই হোক না কেন মানব না। সমাবেশ সফল করবই।’
আগামী ২২ অক্টোবর খুলনার সোনালী ব্যাংক চত্বরে বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি। এ সমাবেশকে সামনে রেখে ২১ ও ২২ অক্টোবর খুলনা থেকে সব বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। এ প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারি দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া হবে না বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। আজ পর্যন্ত কি আওয়ামী লীগ তাদের কোনো কথা রাখতে পেরেছে, রাখতে পারেনি। কারণ তারা বিশ্বাসই করে যা বলব, তা করব না। ঠিক উল্টোটা করে। সুতরাং আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।’
‘বিএনপি আরেকটা ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টির দিবাস্বপ্ন দেখছে’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেন তো তারাই সৃষ্টি করেছে। সেই অভ্যাস তাদের আছে। সেজন্য তারা এই কথা মনে করে। তবে আমরা কোনো দিবাস্বপ্ন দেখি না। আমরা স্বপ্ন দেখি একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের, আমরা স্বপ্ন দেখি মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার, আমরা স্বপ্ন দেখি সত্যিকার একটা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার।’
এর আগে গুলশান কার্যালয়ে বিকেল ৪টায় প্রথমে জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা এবং বিকেল ৫টায় ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরীর সঙ্গে দলীয় নেতাদের নিয়ে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসেন বিএনপি মহাসচিব। দুটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
সংলাপে অংশ নেওয়া জাতীয় দলের অন্য সদস্যরা হলেন রফিকুল ইসলাম, শামসুল আহাদ, সারোয়ার আলম, লুতফুল হাবিব, মাসুদ চৌধুরী, সাইফুল আলম রুমেল, শহীদ আলী, বেলায়েত হোসেন শামীম, আতিকুর রহমান ও মো. রফিকুল ইসলাম।
ইসলামিক পার্টির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন আবুল কাসেম, এজাজ হোসেন, সিদ্দিক আহমেদ নোমান, সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী, আব্দুর রহমান, আদেল উদ্দিন মাহমুদ, সুজন মাহমুদ ও সাইফুর রহমান।