ডাচদের হারিয়ে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত করলো শ্রীলংকা

শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য ডাচদের প্রয়োজন ৩৯ রান। হাতে মাত্র একটি উইকেট। এমন সময় অধিনায়ক দাসুন শানাকা ভরসা করলেন মহেশ থিকশানার ওপর। কিন্তু প্রথম বলেই নো বল দিলেন। সঙ্গে ডেভিড ও দাউদের ব্যাট থেকে ছক্কায় যোগ হলো ৭ রান। পরে সেই ওভার থেকে ১৬ রান যোগ করেন দাউদ। তাতে জয়ের সলতেটা আবার জ্বালিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ ওভারে আর পেরে উঠলেন না তিনি। তাতে ১৬ রানের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ডাচদের।

অথচ এরআগেই অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন থিকশানা। জয়ের জন্য ডাচদের ৩০ বলে প্রয়োজন ছিল ৬১ রান। হাতে ছিল পাঁচটি উইকেট। টি-টোয়েন্টির বিচারে যা কঠিন কিছু না। এমন দাসুন শানাকা বল তুলে দিলেন মহেশ থিকশানার হাতে। আস্থার প্রতিদান হিসেবে তিনি দিলেন মাত্র ৩ রান। সঙ্গে শেষ বলে পেলেন রান আউট থেকে আদায় করলেন দলীয় উইকেট।

এতে চাপে পড়ে নেদারল্যান্ড। সেটা বুঝে ওঠার আগে পরের ওভারের প্রথম বলেই টিম ফন ডার গুটেন শিকার হন হাসারাঙ্গার। শেষ বলে লংকান লেগি নেন আরও একটি উইকেট। দ্রুত তিন ব্যাটারকে হারানোর চাপ সামলে আর উঠতে পারেনি স্কট এডওয়ার্ডসরা। তাতে ১৬ রানের জয় পায় লংকানরা।

ডাচদের ব্যাটিং ইনিংসের ১৪ ওভার শেষেও ৪ উইকেট হারিয়ে রান ছিল ৯৬। জয় থেকে খুব বেশি দূরে ছিল না তারা। কিন্তু পনেরতম ওভারে অধিনায়ক এডওয়ার্ডস ১৫ বলে ২১ রান করে ফিরে গেলে দিশেহারা হয়ে যান নেদারল্যান্ডের ব্যাটাররা। বিনুরা ফার্নেন্দুর ইয়র্কার বলটি সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। তারপর আরও তিন ব্যাটারকে দুই ওভারের মধ্যে হারিয়ে ফেলে তারা। শেষ দিকে ডেভিড ও দাউদ চেষ্টা করেছিলেন। অষ্টাদশতম ওভারে ১৫ রান নিয়ে জয়ের সলতেটা আবার আলোকিত করেছিলেন। উনিশতম ওভারেও জাগিয়েছিলেন আশা। কিন্তু শেষ ওভারে তা আর পেরে উঠেননি।  

দাউদ ৫৩ বল খেলে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ছয়টি ৪ ও তিনটি ছক্কায়। এছাড়া অধিনায়ক এডওয়ার্ডসের ২১ রানের ইনিংসের পথে ছিল তিনটি চারের মার। তিনি নেমে বাস ডি লিডি ১০ বলে একটি করে ছক্কা ও চারে সাজান ১৪ রানের ইনিংস। টম কুপার ১৯ বল খেলে করেন ১৬ রান।

শ্রীলংকার হয়ে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ২৮ রান দিয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া মহেশ থিকশানা দুটি, লাহিরু কুমারা ও বিনুরা ফার্নান্দো একটি করে উইকেট লাভ করেন।

এই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার একে উঠে আসল শ্রীলংকা। একইসঙ্গে নিশ্চিত হলো তাদের সুপার টুয়েলভে খেলা। দিনের অপর ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারালে মূল পর্বে নাম লেখাতে পারবে নামিবিয়াও। তাতে প্রথম দুই ম্যাচ জিতেও শেষ ম্যাচের হারে বিদায় নিশ্চিত হবে নেদারল্যান্ডের। দাসুন শানাকাদের কাছে হেরে তারা পিছিয়ে গেছে রান রেটে।