সাগরে লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার শঙ্কা

আন্দামান সাগর ও এর কাছাকাছি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। লঘুচাপটি আগামী তিন দিনে ঘনীভূত হয়ে ক্রমান্বয়ে নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার এ সময়টাতে (অক্টোবর-নভেম্বর) বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা থাকে প্রতি বছরই। এবারও চলতি মাসে আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও সাগরে একটি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস মতো  ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হলে তার নাম হবে সিত্রাং। থাইল্যান্ডের দেওয়া এ নামের অর্থ পাতা। আর সেটি সিডরের চাইতেও ভয়ংকর হতে পারে।

গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আন্দামান সাগর এবং এর কাছাকাছি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে বিদায় নিয়েছে। দেশের অবশিষ্টাংশ থেকেও বিদায় নেওয়ার আবহাওয়াগত অবস্থা অনুকূলে রয়েছে। মৌসুমি বায়ু উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, সাগরের ওই এলাকায় গতকাল সকালে লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সাবধানতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বিকেলে বজলুর রশিদ বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপের রূপ নিতে পারে। তারপর এর অবস্থান, গতি উল্লেখ করে সতর্কবার্তা জানানো হবে। ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে উপকূলের কাছাকাছি দূরত্ব পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে চলতি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, অক্টোবরে একটি থেকে দুটি লঘুচাপ হতে পারে, যার একটি রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে। কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল গ্øোবাল ফোরকাস্ট সিস্টেম (জিএফএস) জানায়, ১৮ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি সুপার সাইক্লোন সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রথমে সেটিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাসেও একই আশঙ্কা ব্যক্ত করা হচ্ছে।

জিএফএসের পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে যে ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে সেটি সরাসরি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মাঝামাঝি সুন্দরবন অঞ্চল অতিক্রম করতে পারে। এর গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২১০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার। আসন্ন ঘূর্ণিঝড়টি তার শক্তিমত্তায় ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের সমান, এমনকি এর চেয়েও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর গতিপথও হতে পারে সিডর ও আম্পানের পতিপথে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, অমাবস্যার বর্ধিত প্রভাবে ঘূর্ণিঝড়ের গতি ও শক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় স্থানভেদে ১০ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের উৎপত্তি হয় বঙ্গোপসাগরে। আর সবচেয়ে বেশি আঘাত আসে বাংলাদেশ এবং এর সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা-অন্ধ্র উপকূলভাগের এই বেল্ট বা বিশাল তটরেখা বরাবর। বাংলাদেশসহ এই বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের দুর্যোগ ইতিহাস পর্যায়ক্রমে দেখা যায়, অতীতকাল থেকে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে অনেকগুলো সাইক্লোন আঘাত হেনেছে এ অঞ্চলে।