হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করে আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে মিথ্যা মামলা ও গুলি করে মানুষ হত্যা বন্ধ করেন। ইতিহাস ভুলে যাবেন না। দেয়ালের লিখন পড়ুন। সাধারণ মানুষের মনের ভাষা বুঝতে শিখুন। দেশের মানুষ কাউকে ক্ষমা করেনি।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
সারা দেশে ধরপাকড়, মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার, জামিন বাতিল করে নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠানো, পুলিশের হামলা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল সব জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। ভালোয় ভালোয় সরে পড়েন। ইতিহাস ভুলে যাবেন না। নইলে দেশের জনগণ জানে কীভাবে সরাতে হয়।’
‘ধৈর্য ধরুন, বিদ্যুৎ পাবেন’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আর কত ধৈর্য ধরব। ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। আমাদের তো আর চলে না। দেশের কলকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কলকারখানা বন্ধ হলে লাখ লাখ কর্মী বেকার হবে। দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে সরকার আজ সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচার করছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার ভয় পেয়ে গেছে। এ কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাচ্ছে।’
দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও খ- খ- মিছিল নিয়ে দুপুর ১২টা থেকেই সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের নেতাকর্মীরা। সমাবেশের কারণে ফকিরাপুল মোড় থেকে কাকরাইলের নাইটিংগেল মোড় পর্যন্ত সড়কের দক্ষিণ পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আমানউল্লাহ আমানসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা।
সরকার সরাতে না পারলে জাতির অস্তিত্ব থাকবে না : এর আগে দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে ‘মৃত্যুকূপে ধাবমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়। সেখানে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে না পারলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না, জাতির অস্তিত্ব থাকবে না। গত ১৪ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মত্যাগকে শক্তিতে পরিণত করে আমাদের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। রাজপথে নেমে সরকারকে না বলে দিতে হবে।’
সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনে সারা দেশে পুলিশের গুলিতে নিহতদের স্মরণে এই ‘পুস্তিকা’ প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া বিএনপির কর্মসূচি পালনকালে নিহত আবদুর রহিম, নুরে আলম, রাজা আহমেদ শাওন, শহিদুল ইসলাম শাওনের পরিবারকে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন দলের মহাসচিব।
পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও জ্যেষ্ঠ মহাসচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি হয়। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জিয়া পরিষদের নেতা অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।