ছাত্রলীগের দায়ের করা মানহানির মামলায় জামিন পেয়েছেন দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল ও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক পাভেল হায়দার চৌধুরী। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে পদ-বাণিজ্যের খবর প্রকাশের জেরে দায়ের করা মামলায় গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মো. রশিদুল আলমের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে বিচারক ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন। গত ৬ জুলাই দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘ছাত্রলীগের পদ কোটি টাকা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ৭ জুলাই দেশ রূপান্তর
বেদক জামিন পেলেন পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানো হয়। প্রতিবেদনটি মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে ভুল স্বীকার করে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের ক্ষমা চাইতে বলা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের আড়াই মাস পর গত ২০ সেপ্টেম্বর মাহির আলী খাঁন রাতুল ও পাভেল হায়দার চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মা।
দেশ রূপান্তরে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ ও শিরোনাম উল্লেখ করে নোটিসে বলা হয়, ‘অনলাইন ও মুদ্রণ মাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট রিপোর্ট মুদ্রণ, লিখন, প্রচার ও প্রকাশ করে মামলার দ্বিতীয় ও তৃতীয় সাক্ষীর মানহানি করা হয়েছে।’ মামলায় দ-বিধির ৫০০/৫০১/৫০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম দেশ রূপান্তরের প্রকাশক ও প্রতিবেদককে ২০ অক্টোবর (গতকাল) আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। বাদী নিজে মামলার প্রথম সাক্ষী হন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে দ্বিতীয় সাক্ষী, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে তৃতীয় সাক্ষী এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজীর হোসেন নিশিকে চতুর্থ সাক্ষী করা হয়। ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শাখার দুই নেতাকেও সাক্ষী করা হয়।
জামিন আবেদনের পর মামলাটি জামিনের শুনানির জন্য উত্থাপিত হয়। শুনানিতে বলা হয়, দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় গত ৬ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ তথ্যভিত্তিক ও উৎসভিত্তিক। প্রতিবেদনে তথ্যের সঠিকতার উৎস প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মানহানিকর কোনো বক্তব্য নেই; বরং প্রতিবেদনে সত্য প্রকাশিত হয়েছে। মামলায় বাদীপক্ষের বর্ণিত কোনো ধারার লংঘন না হওয়ায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিবাদীরা জামিন পেতে পারেন।
শুনানি শেষে আদালত মাহির আলী খাঁন রাতুল ও পাভেল হায়দার চৌধুরীর জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেয়। আদালতে এই দুজনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মানিক লাল রায়, অ্যাডভোকেট মো. শাহীনুর ইসলাম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমেদ গাজী, অ্যাডভোকেট আশরাফ-উল-আলম, অ্যাডভোকেট প্রকাশ বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান, অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলম, অ্যাডভোকেট আনোয়ার কবির বাবুল প্রমুখ।