নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে গোলাগুলি, আতঙ্ক

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ভেতরে ফের প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির চাকধালা থেকে দোছড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমারের ভূখণ্ডে গোলাগুলি শুরু হয়, চলে দিনভর। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোলাগুলির মাত্রাও বাড়ে। এতে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও দৌছড়ি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে মিয়ানমার ভূখণ্ড থেকে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি চেরারমাঠেও মেশিনগানের কিছু গুলি এসে পড়ে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে চেরারমাঠসহ কয়েকটি এলাকার মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পাশের গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ১০ অক্টোবর নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে গোলাগুলি ও মর্টার শেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রায় ১২ দিন পর গতকাল সেখানে আবার গোলাগুলি শুরু হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, চেরারমাঠে প্রায় ২০০ পরিবারের বসবাস। মিয়ানমারে নতুন করে গোলাগুলি শুরু হওয়ার পর তারা প্রায় সবাই পাশের পাড়ায় সরে যাচ্ছে। এ ছাড়া চেরারমাঠ লাগোয়া ফুলতলী ও জামছড়ি এলাকারও অনেক মানুষ নিরাপদ জায়গায় সরে যাচ্ছে। জানা গেছে, সীমান্তের ওপারে বৃষ্টির মতো গোলাগুলি চলায় আতঙ্কে থাকতে না পেরে চেরারমাঠের অনেক বাসিন্দা পাশের দক্ষিণ চাকধালা প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চাকধালা বাজার এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। আবার অনেকে আশ্রয় নিয়েছে আমতলী মাঠ, লাম্বামাঠ ও চাকধালা এলাকায় আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ইমন বলেন, সীমান্তের ৪৩ পিলার থেকে দোছড়ি ইউনিয়নের ৫০ পিলার পর্যন্ত এলাকাজুড়ে ব্যাপক গোলাগুলি চলছে। এ জন্য তার ইউনিয়নের চেরারমাঠ, ফুলতলী, জামছড়িসহ কয়েকটি সীমান্তঘেঁষা পাড়ার লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলা হয়েছে। বেশ কয়েক দিন ধরে ওই এলাকায় সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের সীমান্তচৌকিগুলো দেশটির স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) দখলে ছিল। এখন ওই সীমান্তচৌকিগুলো পুনঃ দখলের জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দোছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা আব্দুস শুক্কুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিয়ানমারে প্রচণ্ড গোলাগুলি ও মর্টার শেলের বিকট শব্দে এপারে সীমান্তের এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ওপার থেকে ভারী অস্ত্রের দুটি গুলি আমাদের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে। সকালে ধানক্ষেতে কাজ করার সময় হঠাৎ মিয়ানমারে প্রচণ্ড গোলাগুলির আওয়াজ শুনতে পাই। গোলাগুলির আওয়াজ শুনে ধানক্ষেত থেকে সরে আসার পরপরই ভারী অস্ত্রের দুটি গুলি লেমুছড়ি বিজিবি ক্যাম্প থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে এসে পড়ে।’

দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইমরান জানান, তিনি গতকাল দুপুরে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় ওপারে মিয়ানমারে গোলাগুলির প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পান। এমন পরিস্থিতিতে গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কে থাকা পাঁচটি পরিবারকে তার আত্মীয়ের বাসায় থাকার ব্যবস্থা করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা ফেরদৌস বলেন, ‘সদর ও দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির কথা শুনেছি। সীমান্তে বসবাসরত সবাইকে নিরাপদে চলাফেরার নির্দেশনা দিতে চেয়ারম্যানদের বলে দিয়েছি।’