ফেনীর সোনাগাজীতে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় বিএনপির ৩৬ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছে ফেনী জেলা জজ আদালত।
উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন শেষে রোববার দুপুরে জেলা জজ ছালেহ মোহাম্মদ রুহুল ইমরানের আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট হাফেজ আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৭৪ নেতাকর্মীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। জামিনের মেয়াদ শেষে তারা রোববার ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আবু সালেহ মোহাম্মদ রুহুল ইমরানের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তিনজনের জামিন মঞ্জুর করে বাকি ৩৬ জনকে কারাগারে পাঠান।
পিপি বলেন, ‘আসামিরা ছয় সপ্তাহের আগাম জামিনে ছিলেন। রবিবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও চরচান্দিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র জামাল উদ্দিন সেন্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঁইয়া, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন, সদস্য সচিব রাসেল হামিদী, উপজেলা ছাত্রদলের নেতা মেজবাহ উদ্দিন পিয়াস, যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম রয়েছেন।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট বিকাল ৪টায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে সোনাগাজীতে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১০ জন আহত হন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৪০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ঘটনার পরদিন গত ৩০ আগস্ট বিকালে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়। এসআই সুরজিৎ বড়ুয়া ও এসআই মাইন উদ্দিন বাদী হয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩৪৪ নেতাকর্মীর নামে পৃথক দুটি মামলা করে পুলিশ। ইতোমধ্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী নিম্ন আদালত থেকে স্থায়ী জামিন নিয়েছেন।