রাজধানীর ধানমন্ডি লেকপাড় থেকে এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ধানমন্ডি লেকের রবীন্দ্র সরোবর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহত এ মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের নাম শাহাদত হোসেন মজুমদার (৫১)।
এ ঘটনায় গতকাল রবিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এর আগেও ধানমন্ডি লেক এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত ১৭ এপ্রিল রাত সোয়া ৮টার দিকে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে দুই শিক্ষার্থী আহত হন। গত বছরের ৩ জুন সন্ধায় ধানমন্ডি লেকের রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় ৩ শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা।
শনিবার রাতে নিহত শাহাদতের স্বজনরা জানান, রাজধানীর নর্থ সার্কুলার রোডে পরিবার নিয়ে থাকতেন শাহাদত। প্রতিদিনের মতো ওইদিন সন্ধ্যায় শরীরচর্চা করার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে সারা রাত চেষ্টা করেও পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। গতকাল সকালেই তারা খবর পান পুলিশ শাহাদতের লাশ উদ্ধার করেছে।
ধানমন্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, শাহাদতের শরীরে ৪টি ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মারা গেছেন তিনি। অন্য কোনো ঘটনা আছে কি না তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি (ক্লোজ সার্কিট) টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার সময় পুরো লেক এলাকায় কোনো বিদ্যুৎ ছিল না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে শাহাদতকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও দুর্বৃত্তদের আটকের চেষ্টা চলছে।
শাহাদতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। তার ভাই মো. মোতালেব হোসেন মজুমদার দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি পেশায় চিফ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। স্ত্রী আজমেরি সুলতানা শিউলী, ১ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে কলাবাগানে থাকতেন। বড় মেয়ে সাবিহা সুলতানার এসএসসি পরীক্ষার জন্য পরিবারকে সময় দিতেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায়।