সিসি ক্যামেরায় গোপনীয়তা নষ্ট হয়নি : ইসি

গাইবান্ধা উপনির্বাচনে ভোটকক্ষে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপনের কারণে ভোটারের গোপনীয়তা কোনোভাবেই নষ্ট হয়নি বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের ভাষ্য, ভোট দেওয়ার সময় বুথে ভোটারের সঙ্গে অন্য কেউ প্রবেশ করল কি না, শুধু সেটি ধরা পড়ে ক্যামেরায়। কিন্তু ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন, সেটি দেখার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি ভোটারের ভোট প্রদানের গোপনীয়তা রক্ষায় আইন অনুযায়ী সব ব্যবস্থাই নেয় ইসি। গতকাল রবিবার ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশনের এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। ‘ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন হচ্ছে’ গণমাধ্যমে আসা অনেকের এমন বক্তব্যকে বিজ্ঞপ্তিতে বিভ্রান্তিকর হিসেবে বর্ণনা করেছে ইসি।

সম্প্রতি গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়মের দৃশ্য ঢাকায় বসে সিসিটিভিতে দেখে ভোট বন্ধ করে দেয় ইসি। এরপর গোপন কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সৃষ্টি হয় বিতর্ক। সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীও গোপন কক্ষে ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে মন্তব্য করেন। তাদের মতে, ইসি গোপন কক্ষে ক্যামেরা স্থাপন করে ভোটারের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছেন।

এরই প্রেক্ষাপটে কমিশনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, গাইবান্ধা-৫ শূন্য আসনের উপনির্বাচনে ভোটকক্ষে ভোট প্রদানের সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য ইসি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছিল। গোপনকক্ষে ভোটার কাকে ভোট দিলেন তা দেখার কোনো সুযোগ সিসিটিভিতে নেই। তবে গোপনকক্ষে ভোটারের সঙ্গে কেউ প্রবেশ করল কি না বা ভোটার ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করল কি না, একই সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি প্রবেশ করল কি না, ভোট প্রদানের সময় কেউ উঁকি দিয়ে দেখে কি না বা পাশে দাঁড়িয়ে কোনো নির্দেশ প্রদান করল কি না, তা দেখা যায়।

নির্বাচনী আইন উদ্ধৃত করে ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৩১ (৭) ধারা অনুযায়ী ভোটার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বা অন্যভাবে এরূপ অক্ষম হলে তিনি কোনো সঙ্গীর সাহায্য ছাড়া ভোট প্রদান করতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসার ওই ভোটারের পছন্দমতো ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে তার ভোট দিতে সাহায্য করার জন্য গোপন কক্ষে নিতে পারবেন। তার সঙ্গে কোনোভাবেই কোনো ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা, এজেন্ট বা অন্য কেউ গোপনকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না; অর্থাৎ বিষয়টি খুবই স্পষ্ট যে ভোটকক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে কোনোক্রমেই ভোট প্রদানের গোপনীয়তা নষ্ট হয়নি।

ভোটকক্ষের গোপন বুথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে কারও কারও বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে উল্লেখ করে এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রচারিত বক্তব্যমতে, ভোটকক্ষের গোপন বুথে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে কে কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা দেখা মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন। গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সে কাজটি করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করেছে। এ ধরনের বক্তব্য মোটেও সঠিক নয় এবং বিভ্রান্তিকর।

বিজ্ঞপ্তিতে ইসি বলেছে, ইভিএমে কীভাবে ভোট দিতে হয় সে বিষয়ে ভোটার শিক্ষার জন্য প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া একজন ভোটারকে ভোট দেওয়ার জন্য গোপনকক্ষে প্রবেশের আগেই সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা ডামি ব্যালট ইউনিটে দেখিয়ে দেন কীভাবে ভোট দিতে হবে। কাজেই ভোট কীভাবে দিতে হবে এটা দেখানোর জন্য ভোটারের সঙ্গে গোপনকক্ষে অন্য কারও প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই।

এতে আরও বলা হয়, ইসি প্রতিটি ভোটারের ভোট প্রদানের গোপনীয়তা রক্ষায় আইন অনুযায়ী সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য না দিতে আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা করার জন্য কমিশন সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।