ডিআইজি প্রিজনস বজলুর রশীদের ৫ বছরের সাজা

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় কারা অধিদপ্তরের সাময়িক বরখাস্তকৃত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজনস) বজলুর রশীদকে ৫ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তার অবৈধভাবে অর্জিত ৩ কোটি ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯০২ টাকা বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বজলুর রশীদকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ- দিয়েছে আদালত।

গতকাল রবিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. ইকবাল হোসেন এ রায় দেন।

অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, বজলুর রশীদ ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে ২৯৮১ বর্গফুট আয়তনের নির্মাণাধীন একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন। অ্যাপার্টমেন্টের দাম বাবদ ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা পরিশোধও করেছেন। বজলুর রশীদ এ টাকার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। এমনকি তিনি অ্যাপার্টমেন্ট কেনা সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার আয়কর নথিতে দেখাননি। পরিশোধিত ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

এ অর্থসহ বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯০২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২০ আগস্ট বজলুর রশীদ ও তার স্ত্রী রাজ্জাকুন নাহারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওইদিন দুপুরে দুদক পরিচালক মো. ইউসুফের নেতৃত্বে একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে এবং মামলা দায়ের করে।

একই বছরের ২৬ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দীন দুদক আইনের ২৭(১) ধারায় বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পরের বছর ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত। গত ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত মামলার রায় ঘোষণার জন্য গতকাল (২৩ অক্টোবর) দিন ধার্য করে।

১৯৯৩ ব্যাচের কারা ক্যাডারের কর্মকর্তা বজলুর রশীদ ঘটনার সময় ঢাকায় কারা সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন।