দেশে করোনার ওমিক্রন ধরনের আরেকটি উপধরন শনাক্ত হয়েছে। এর নাম ‘এক্সবিবি’। গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আইসিডিডিআর,বির তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত করোনার ৯২টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে এ নতুন উপধরন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এখনো করোনাভাইরাস সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে।
আইসিডিডিআর,বির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিনোম সিকোয়েন্সের প্রথম দুই সপ্তাহে ১০-২৩ সেপ্টেম্বর নমুনাগুলোতে ওমিক্রনের বিএ.-২ উপধরন পাওয়া গেছে ৮৪ শতাংশ এবং বিএ.-৫ ধরন ১৬ শতাংশ। এই উপধরনগুলোর বেশিরভাগই নতুন উপধরণ ‘এক্সবিবি’ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত তিন সপ্তাহে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা করোনাভাইরাসের ৮৫ শতাংশই ছিল এই নতুন উপধরন।
ওমিক্রনের নতুন উপধরনটি এর আগে সিঙ্গাপুরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সংক্রমণ ঘটিয়েছে। এ ছাড়া ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও হংকংসহ অন্তত ১৭টি দেশে এই উপধরন পাওয়া গেছে।
জিনোম সিকোয়েন্সে যে ৩২ করোনা রোগীর মধ্যে ওমিক্রনের এ নতুন উপধরন পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে বেশিরভাগ (৭৮%) রোগীর মধ্যে করোনার মৃদু উপসর্গ ছিল। বাকি ছয়জনের মধ্যে উপসর্গ তীব্র ছিল এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এসব রোগীর মধ্যে ৯১ শতাংশই কমপক্ষে দুই ডোজ করোনার টিকা নিয়েছিলেন। ৪৭ শতাংশ রোগী পুনরায় করোনায় সংক্রমিত ছিলেন।
করোনায় একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৯ : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে একজন মারা গেছে। এ সময়ে আরও ১৩৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৯ হাজার ৪১৩ এবং শনাক্ত হলো ২০ লাখ ৩৪ হাজার ১৪১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ সময় যে একজন মারা গেছেন, তিনি পুরুষ এবং ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।