রাশিয়ার চর নাকি সংবিধান রক্ষক

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্য ফাঁস করে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলে দেন এডওয়ার্ড স্নোডেন। ২০১৩ সালের ওই ঘটনার পর রাশিয়ায় আশ্রয় নেন হুইসেল ব্লোয়ার। সম্প্রতি তাকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নাগরিকত্ব দেওয়ায় ফের প্রশ্ন উঠেছে, স্নোডেন কি তাহলে রাশিয়ার চর, নাকি তার উদ্দেশ্য ভিন্ন ছিল? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

তথ্য ফাঁস

এডওয়ার্ড স্নোডেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইটি বিশেষজ্ঞ। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করে মার্কিন সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দেন। গত মাসের শেষের দিকে এই হুইসেল ব্লোয়ারের নাগরিকত্বের আবেদন মঞ্জুর করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তার স্বাক্ষরিত ডিক্রিতে বলা হয়, স্নোডেনসহ ৭২ বিদেশি রুশ নাগরিক হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন স্নোডেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে বাস করা নাগরিকদের ওপর এনএসএর নজরদারির তথ্য ২০১৩ সালে ফাঁস করে বিশ্বে ব্যাপক আলোচিত হন তিনি। তথ্য ফাঁসের পর তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মামলা করে দেশটির সরকার। তার আগেই অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পালাতে সক্ষম হন স্নোডেন। ২০১৩ সালে রুশ সরকার তার আশ্রয় আবেদন মঞ্জুর করে। এরপর ২০২০ সালে স্নোডেনকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয় রাশিয়া। সে সময় তিনি রুশ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলেও মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয় দেশের নাগরিক ৩৯ বছর বয়সী স্নোডেন। পুতিনের ওই ডিক্রির পর হুইসেল ব্লোয়ারের আইনজীবী অ্যানাতলি কুচেরেনা জানান, স্নোডেনের স্ত্রী লিন্ডসে মিলস রাশিয়ার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। স্নোডেন রাশিয়ায় যাওয়ার পরের বছর ২০১৪ সালে মিলস মস্কোতে যান। সেখানে তারা ২০১৭ সালে বিয়ে করেন।

‘দেশদ্রোহী’ স্নোডেন

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি, লাখ লাখ মার্কিন নাগরিকের টেলিফোন রেকর্ড থেকে পাওয়া তথ্য কখনো জেনেবুঝে সংগ্রহ করে না এনএসএ। সংস্থাটির দাবির বিপক্ষে ২০১৩ সালে স্নোডেন প্রমাণ হাজির করলে তখন সুর পাল্টে ফেলে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, এনএসএর নজরদারি কর্মসূচি দেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ফাঁসের যে কটি ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর মধ্যে স্নোডেনের ঘটনাটি অন্যতম। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে দেশটির প্রযুক্তি শিল্পের সম্পর্ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এনএসএর মার্কিন নাগরিকের ফোন রেকর্ড সংগ্রহের কর্মসূচি পরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় এক আদালত বেআইনি ও অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। অবশ্য গুপ্তচরবৃত্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্নোডেনকে বরাবরই দেশদ্রোহী হিসেবে দেখে আসছে। 

২০১৭ সালে মার্কিন পরিচালক অলিভার স্টোন নির্মিত এক প্রামাণ্যচিত্রে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গোপন তথ্য ফাঁস করায় স্নোডেনকে দেশদ্রোহী আখ্যায়িত করা ঠিক নয়।’ এদিকে স্নোডেনের রুশ নাগরিকত্বের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এনএসএ। তবে সংস্থাটির সাবেক প্রধান উপপরিচালক স্যু গর্ডন বলেন, ‘স্নোডেন রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ায় প্রমাণ হয়, তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে তিনি আর যাই করুন, অন্তত যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে চাননি। আমি মনে করি, স্নোডেনকে রাশিয়ার নাগরিকত্ব দেওয়া একটি সন্দেহজনক সিদ্ধান্ত। তিনি সে সময় দেশপ্রেমিকের মতো আচরণ করেন, এমনটা ভাবার এখন আর অবকাশ নেই।’ এনএসএর সাবেক পরিচালক জেমস আর ক্ল্যাপার অবশ্য নাগরিকদের ফোন রেকর্ডের বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘ফোন রেকর্ড সংগ্রহে আমাদের আরও স্বচ্ছ থাকা উচিত ছিল। এটি স্বীকার করতে দ্বিধা নেই। তবে স্নোডেন আরও অনেক তথ্য ফাঁস করেন, যার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নজরদারির কোনো সম্পর্ক নেই।’

রাশিয়ার নাগরিক হতে চাওয়ার কারণ হিসেবে ২০২০ সালে স্নোডেন টুইটবার্তায় বলেছিলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে মা-বাবার থেকে দূরে আছি। আমার স্ত্রী ও আমি চাই না সন্তানরা আমাদের থেকে দূরে থাকুক। এ কারণে করোনা মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা দুজনই রুশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছি। আমার স্ত্রী এবং আমি সারা জীবন আমেরিকানই থাকব। আমেরিকার আদর্শে আমাদের ছেলেদের বড় করব। মার্কিন সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। আমরা চাই, আমাদের ছেলেরা যেন বড় হয়ে স্বাধীনভাবে নিজের মতপ্রকাশ করতে পারে। স্ত্রী ও ছেলেদের নিয়ে এক দিন আমি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরব এবং পরিবারের সব সদস্য ফের একত্র হবেসেই দিনের অপেক্ষায় আছি।’

কী হয়েছিল

২০১৩ সালে হংকংয়ে যান স্নোডেন। উদ্দেশ্য, তিন সাংবাদিককে হাজার হাজার গোপনীয় নথি সরবরাহ করা। ওইসব নথিতে মার্কিন নাগরিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির বিস্তারিত তথ্য ছিল। স্নোডেনের হংকংয়ে যাওয়া ও সেখানে সাংবাদিকদের হাতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্য তুলে দেওয়ার খবর প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও দ্য গার্ডিয়ান। তিনি মনে করেন, যেসব গোপন নথি সাংবাদিকদের তিনি দিয়েছেন, সেগুলোতে স্পষ্ট প্রমাণ হয়, মার্কিন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা কীভাবে নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করছে। সংস্থাগুলোর এই কাজ পুরোপুরি অসাংবিধানিক। সাংবাদিকদের নথি দেওয়ার পর স্নোডেন হংকং থেকে রাশিয়া হয়ে ইকুয়েডর যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। ভেবেছিলেন, লাতিন আমেরিকার দেশটিতে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করবেন। কিন্তু স্নোডেন যখন মস্কোর শেরেমেতিয়েভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন, তখন তিনি পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে পারেননি। পরে এক সাক্ষাৎকারে স্নোডেন বলেছিলেন, ‘আমি ভাবিনি যে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমার পাসপোর্ট বাতিল করবে। শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে নামার পর রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে যান। তারা আমাকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন, বিনিময়ে আমার কাছ থেকে তারা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নথিগুলো চায়, যেগুলো আমি সাংবাদিকদের দিয়েছিলাম। আমি ওই কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের সহযোগিতা করিনি, করবও না। এনএসএর আর্কাইভে আমার প্রবেশাধিকার আমি আগেই ধ্বংস করেছিলাম। হংকংয়ে সাংবাদিকদের নথিগুলো দেওয়ার পর নিজের কাছে কিছুই রাখিনি। আমি জানতাম, জটিল পথ পাড়ি দিয়ে আমাকে ইকুয়েডর পৌঁছাতে হবে।’ মস্কোর ওই বিমানবন্দরে ৪০ দিন ছিলেন স্নোডেন। ওই সময়ে তিনি বেশ কটি দেশে আশ্রয়ের আবেদন জানান। ২৭টি দেশ তার আবেদন নামঞ্জুর করে। শেষ পর্যন্ত তাকে রাশিয়াতেই থেকে যেতে হয়। স্নোডেন বলেন, ‘অনেকে আমাকে উন্মাদ মনে করে, কেউ কেউ আবার চরমপন্থিও ভাবে। কিছু মানুষ এও মনে করে, আমি নাকি এনএসএ জ্বালিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। ২০১৩ সালের ঘটনা শুধু গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির বিষয়ের উন্মোচন ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র সরকার কীভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করছে, সেটা দেখানো আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল।’

সন্দেহের শুরু

দেশ-বিদেশে নজরদারির বিষয়ে চীন কতটা দক্ষ, সে সম্পর্কে জানানোর দায়িত্ব গত দশকের শুরুতে স্নোডেনকে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। এ বিষয়ে হুইসেল ব্লোয়ার বলেন, “চীন কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকাণ্ড হ্যাক করছে, সে বিষয়ে আমাকে গবেষণা করতে বলা হয়। এ ছাড়া দেশের প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন কাজে চীনের হ্যাকিং সম্পর্কেও আমাকে বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়। এসব বিষয়ে আমার ধারণা খুব বেশি ছিল না। তাই দায়িত্ব পাওয়ার পর কাজে নেমে পড়ি। চীন আসলে কী করছে? অন্য দেশে তাদের নজরদারির ক্ষমতা ঠিক কতটুকু? তারা কি আসলেই হ্যাক করছে? এসব নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে একপর্যায়ে চীনের নজরদারির সক্ষমতার ব্যাপ্তি দেখে বিস্মিত হয়ে যাই। তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশটির আগ্রাসী চিন্তা ও কর্মকাণ্ড রীতিমতো আতঙ্কিত হওয়ার মতো। তবে একই সঙ্গে এও খেয়াল করলাম, তাদের এসব কর্মকাণ্ড কোনো গোপন বিষয় নয়। তারা যে নিজের দেশের পাশাপাশি অন্য দেশেও নজরদারি করছে, এ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো লুকোচুরি নেই, যা আমাকে বেশ অবাক করে সে সময়। তাদের আচরণ অনেকটা এমন, ‘হ্যাঁ, আমরা তোমাকে হ্যাক করছি। তুমি কী করবা?’ এনএসএও গোয়েন্দাগিরি করে। কিন্তু তারা সব সময় বলে আসছে, ‘জাতীয় স্বার্থে আমরা শুধু দেশের বাইরে অবস্থান করা নাগরিকদের নজরদারির মধ্যে রাখি। দেশের ভেতরে বাস করা নাগরিকদের ওপর গোয়েন্দাগিরির প্রশ্নই ওঠে না। সন্ত্রাসীদের রুখতেই আমরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকি। এর বেশি কিছু নয়, কারণ আমরা চীন নই।’ চীনের নজরদারি নিয়ে গবেষণা করার সময়ই এনএসএর এ ধরনের বক্তব্য আমার মধ্যে প্রথম সন্দেহের বীজ বপন করে। আসলেই কি দেশের মানুষ গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির ঝুঁকিতে নেই? নাকি চীন যেটা প্রকাশ্যে স্বীকার করছে, যুক্তরাষ্ট্র সেটা করছে না?”

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আমার পেশাগত জীবনের শেষ কয়েক বছরে আমি জানতে পারি, নজরদারির বিষয়ে চীন সরকারের সঙ্গে আমরা কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। তাদের মতো আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও দেশের বাইরে তো বটেই, ভেতরেও নজরদারি চালাচ্ছে। এ বিষয়ে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করে চলে এনএসএ, যা কখনোই তারা প্রকাশ্যে স্বীকার করে না। তাদের নীতি হলো, সবার সব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এর অর্থ, এনএসএ শুধু অপরাধী, গুপ্তচর বা সন্ত্রাসী নয়, প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করে কারণ কোন তথ্য পরে দরকারে লাগবে, তা আগে থেকে কেউ বলতে পারে না। কোনো তথ্য মিস হয়ে গেলে পরে সেই তথ্য পাওয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে। তাই কোনো তথ্যই বাদ দেওয়া যাবে না। আরও স্পষ্ট করে বললে বিষয়টি বোঝানো সহজ হবে। যখনই আমরা ইমেলে কিছু পাঠাচ্ছি বা গ্রহণ করছি, গুগল সার্চ বক্সে যাই কিছু লিখছি, যতবার আমরা ফোনে কথা বলছি বা মেসেজ পাঠাচ্ছি, পাচ্ছিসব তথ্যই এনএসএর কাছে চলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের বেশির ভাগ সদস্যই এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে আমার ধারণা। তাই আমার মনে হয়েছে, যদি কংগ্রেস জানে, যদি আদালতকে এই সংবিধান পরিপন্থী কাজ সম্পর্কে জানানো যায়, তাহলে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার নীতি চীনের থেকে আলাদা হবে।’

স্নোডেন আরও বলেন, ‘সিআইএর সঙ্গে কাজ শুরুর প্রথম দিনই আমাকে সংস্থাটির সঙ্গে একটি চুক্তি করতে হয়। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, সাংবাদিকদের সঙ্গে কাজ নিয়ে আমি কথা বলতে পারব না, কোনো বই লিখতে পারব না। এখানে একটি বিষয়ে কথা না বললেই নয়। চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমি যে অঙ্গীকার করি, তা ছিল আনুগত্যের অঙ্গীকার। আমার এই অঙ্গীকার কোনো সংস্থার প্রতি নয়, কোনো সরকারের প্রতি নয়, এমনকি কোনো প্রেসিডেন্টের প্রতিও নয়, বরং এটি ছিল সব অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান রক্ষার অঙ্গীকার। তাই যখন বুঝতে পারলাম, যাদের জন্য কাজ করছি, তারা গোপনে অনবরত সেই সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী লঙ্ঘন করে যাচ্ছে, তাদের সংবিধান লঙ্ঘনের মাত্রা দিনকে দিন বাড়ছে, তখন আমি বিষণ্ন হয়ে পড়ি।’

রাশিয়া সরকারের কাছে তথ্য পাচার করেছেন কি নাএই প্রশ্নের জবাবে স্নোডেন বলেন, ‘আমি যদি রাশিয়ার চর হতাম বা মস্কোতে নেমে রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতাম, তাহলে আমি বড়জোর পাঁচ মিনিট ওই বিমানবন্দরে থাকতাম। সেখান থেকে আমাকে কোনো বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হতো। জীবনের বাকি সময় বেশ আরাম-আয়েশেই কেটে যেত। আমাকে হয়তো রাশিয়ার বীরও বলা হতো। কিন্তু পাঁচ মিনিট নয়, আমাকে ৪০ মিনিট বিমানবন্দরটিতে আটকে রাখা হয়েছিল।’ জীবনযাপনের জন্য রুশ সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পান কি নাএর জবাবে হুইসেল ব্লোয়ার বলেন, ‘আমার নিজের আয় আছে। রাশিয়া সরকারের কাছ থেকে অর্থ, বাড়ি বা অন্য কোনো ধরনের সহায়তা আমি নিইনি, কখনো নেবও না। সাইবার নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ, নজরদারিসহ তথ্যপ্রযুক্তির নানা বিষয়ে প্রায়ই আমাকে বিভিন্ন জায়গায় লেকচার দিতে হয়। সেখান থেকে উপার্জন হয়। ঘরের বাইরে বের হওয়া হয় না আমার। ঘরকুনো মানুষ আমি। মেরিল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক, জেনেভা, টোকিও বা মস্কোবিশ্বের যে শহরেই থাকি না কেন, আমার বেশির ভাগ সময়ই কাটে কম্পিউটারের সামনে। আমি মনে করি, তথ্যপ্রযুক্তির উল্টো দিকটি সুন্দর। এই দিক মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগে অঙ্গীকারবদ্ধ। ইন্টারনেটে সবকিছু সুন্দর, তা নয়, কিন্তু এই অসুন্দর নিয়ে ভাবার আছে, কাজ করার আছে।’