কারিগরি ত্রুটিতে লেনদেন বন্ধ এসইসির তদন্ত কমিটি

এক বছরের ব্যবধানে আবারও কারিগরি ত্রুটির কবলে পড়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এতে প্রায় সোয়া ৩ ঘণ্টা লেনদেন বন্ধ থাকে স্টক এক্সচেঞ্জটির। তবে ঠিক কী কারণে লেনদেন বন্ধ ছিল, তা জানাতে পারেননি স্টক এক্সচেঞ্জটির কোনো কর্মকর্তা। এ নিয়ে এক দশকে অন্তত ১০ বার লেনদেনে বিঘ্ন ঘটেছে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে। তথ্যপ্রযুক্তি আধুনিকায়নের অভাব ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের প্রধান এই স্টক এক্সচেঞ্জটিতে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে।

‘কারিগরি ত্রুটির’ কারণে গতকাল সোমবার সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে ডিএসইতে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। পরে লেনদেন শেষ হওয়ার আনুষ্ঠানিক সময়ের পর বেলা ২টা ১০ মিনিটে মাত্র ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন চালু করা হয়। ডিএসইতে লেনদেনে বিঘœ ঘটলেও অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) স্বাভাবিক লেনদেন চলেছে।

এদিকে দেশের ডিএসইতে যান্ত্রিক ত্রুটি ও লেনদেন বন্ধের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। তদন্ত কমিটি গঠনসংক্রান্ত এসইসির আদেশে বলা হয়েছে, ডিএসইর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিরতিহীনভাবে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হয়েছে, যা সিকিউরিটিজ মার্কেটের জন্য অপ্রত্যাশিত।

এসইসির পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে বিএসইসির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ দস্তগির হোসাইনকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিএসইসির উপপরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারিসুল হাসান রিফাত, সিসিবিএলের সিটিও মোহাম্মদ ইমাম হোসেন এবং সিডিবিএলের মহাব্যবস্থাপক মঈনুল হাসান। কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

গত বছরের ১৮ জুলাইও লেনদেনের মাঝে কারিগরি ত্রুটির কারণে লেনদেন বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল ডিএসইতে। ওই দিন সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর ১ ঘণ্টা ৯ মিনিট পর বেলা ১১টা ৯ মিনিটে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। ত্রুটি সারিয়ে ওই দিন ফের লেনদেন শুরু হয় বেলা ১টায়।

ডিএসইর জনসংযোগ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, অন্যান্য দিনের মতো সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় দিনের স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হয়েছিল। তবে ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে কারিগরি ত্রুটির কারণে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।

দ্রুত ত্রুটি সারিয়ে পুনরায় লেনদেন চালু করার চেষ্টা অব্যাহত আছে জানিয়ে ডিএসইর জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, এরই মধ্যে ডিএসইর আইটি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে লেনদেন ব্যবস্থার সফটওয়্যার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাসডাক এবং ফ্লেক্সট্রেড যৌথভাবে কাজ শুরু করছে। তবে বেলা ২টা পর্যন্ত তারা ত্রুটি শনাক্ত করতে পারেনি বলে জানান তিনি। এরপর কোনো ঘোষণা না দিয়েই ২টা ১০ মিনিটে পুনরায় লেনদেন শুরু করে, যদিও সে সময় আনুষ্ঠানিক লেনদেনের সময় শেষ হয়ে যায়। এমনকি বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী লেনদেন শুরুর তথ্যও জানতে পারেননি। এ কারণে লেনদেনের পরিমাণও অনেক কম হয়েছে।

গতকাল শুরুর ১ ঘণ্টা ২৮ মিনিট পর লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে ডিএসইতে ৩০৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেনে এসেছিল। এর মধ্যে মাত্র ২৫টি দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। বাকি শেয়ারগুলোর মধ্যে ৭৯টি দর হারিয়ে এবং ১৯৯টি দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হয়েছে। লেনদেন বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৩৩ পয়েন্ট কমে যায়। বেলা ২টা ১০ মিনিটে ফের লেনদেন চালু হলে শেষ ২০ মিনিটে সূচকটি ৩৬ পয়েন্টের বেশি কমে যায়।

তালিকাভুক্ত ৩৮৮ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৮০টির বেশি শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে থাকায় এসব শেয়ারের দরপতনের সুযোগ না থাকায় এমনিতেই সূচকের বড় পতনের পথ বন্ধ হয়ে আছে। তারপরও আট কার্যদিবসে ১৯৩ পয়েন্ট হারায় সূচকটি। এর মধ্যে গত রবিবার প্রায় ৪৮ পয়েন্ট হারিয়েছে। গতকাল লেনদেন শেষে সূচকটি ৬৩০৭ পয়েন্টে নেমেছে।

কারিগরি ত্রুটির কারণে স্বল্প সময়ের লেনদেনে ডিএসইতে কেনাবেচাও তলানিতে নেমে গেছে। লেনদেন বন্ধ হওয়ার আগে ডিএসইতে ২২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। পরে আরও ২০ মিনিট লেনদেন চলার পর শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকায়।