প্রয়াত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক শুধুই একজন আইনজীবী ছিলেন না। তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। জাতির ক্রান্তিলগ্নে একজন সাহসী পথপদর্শক। আইন পেশার জীবনে সব উপার্জিত অর্থ যেভাবে তিনি মানুষের কল্যাণে দান করে গেছেন, তা বিরল। তার পথ অনুসরণ করতে আইনজীবীদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতিসহ উচ্চ আদালতের বিচারক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।
গতকাল সোমবার প্রথিতযশা আইনবিদ, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভার আয়োজন করে আদ দ্বীন ফাউন্ডেশন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সভায় প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক ও আইনজীবীরা ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের স্মৃতিচারণা করে বক্তব্য দেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সব ছাপিয়ে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক একজন মানবহিতৈষী ব্যক্তি ছিলেন, যিনি আইন অঙ্গনসহ সব ক্ষেত্রে উৎকৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আইনজীবী হিসেবে যেমন অসহায় মানুষকে প্রতিকার দিয়েছেন, তেমনি প্রত্যক্ষ রাজনীতি না করেও এ দেশের গণতন্ত্রের উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।’ আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই ছোট্ট জীবনের সদ্ব্যবহার করে মানবসেবায় অফুরান কাজ করতে হবে, যেটি করেছেন রফিক-উল হক।’ সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক শুধু একজন আইনজীবীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারকও। তিনি ছিলেন একটি ইনস্টিটিউট। তার সান্নিধ্যে যারা এসেছেন, তারাই নিজেকে আলোকিত করার সুযোগ পেয়েছেন।’
আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘আইন অঙ্গনে আরও অনেক রফিক-উল হক যাতে আসেন, সেই মানসিকতা তৈরি করতে হবে। আইনজীবীদের অনেকের হয়তো তার মতো অর্থ আছে। কিন্তু এর সঙ্গে তার মতো সেবার মানসিকতাও থাকতে হবে।’ আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা অর্থ আয় করবেন কিন্তু মানুষের জন্যও ব্যয় করবেন। যেটি করে গেছেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক।’ ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী সময়ে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের অবদানের বিষয়টি স্মরণ করে আপিল বিভাগের বিচারতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘অনেক বড় বড় আইনজীবীই তখন সাহস করে কারও পক্ষে আদালতে আসেননি। কারণ আইনজীবীদের ট্যাক্স ফাইল পরিষ্কার ছিল না। কিন্তু রফিক-উল হকের ছিল। এ জন্যই তিনি শিরদাঁড়া সোজা করে আদালতে দাঁড়াতে পেরেছিলেন।’ স্মরণসভায় বক্তব্য দেন আপিল বিভাগের বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম প্রমুখ।