ক্ষতি কমাতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সরকারের

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ গতকাল দিনভর বৈঠক করে এসব প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থায় নজর দিয়েছে। এসব বৈঠক থেকে সাত হাজার আশ্রয়কেন্দ্র খোলার পাশাপাশি এসব কেন্দ্র বাস-উপযোগী রাখা, কেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করা, জলোচ্ছ্বাস পরবর্তী পুনর্বাসন শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্যোগের কবলে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বৈঠক করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-আতঙ্কে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। তারা অনেকেই গৃহপালিত পশু ও মূল্যবান মালামাল নিয়েও আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েছেন। দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় উপজেলা প্রশাসন, সিপিপি (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি), রেড ক্রিসেন্টসহ স্বেচ্ছাসেবকরা মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে সহযোগিতা করেছেন।

সিত্রাং মোকাবেলায় উপকূলীয় জেলাগুলোর ৭ হাজার ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে ২৫ লাখ মানুষ ঠাঁই নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। তিনি বলেছেন, সিত্রাংয়ের যে বিস্তার, তাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৩ জেলায় এ ঝড় তা-ব চালাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি সমন্বয়ে দুপুরে সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। তিনি বলেন, সকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন নেওয়া শুরু হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ জেলাগুলোয় ৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দের পাশাপাশি শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৩টি জেলায় সিত্রাং তা-ব চালাবে। জেলাগুলো হলো বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ফেনী। এছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দ্বীপ অঞ্চল মহেশখালী, হাতিয়া, সন্দ্বীপ এলাকাও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বরগুনা সদর, পাথরঘাটা ও পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বেশি পড়বে বলে মনে করছেন এনামুর রহমান। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিডর ছিল সুপার সাইক্লোন, সিভিয়ার সাইক্লোনের পর আরেকটি স্তর আছে সেটিকে বলে ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোন, তারপর সুপার সাইক্লোন। সিত্রাংয়ের বাতাসের গতিবেগ হবে ৮০ কিলোমিটার থেকে ১০০ কিলোমিটার, সুতরাং এই গতিবেগ হওয়ার কারণে এটিকে সিভিয়ার সাইক্লোন বলা হচ্ছে। সিত্রাং ভেরি সিভিয়ার বা সুপার সাইক্লোনের রূপ নেওয়ার আপাতত কোনো সম্ভাবনা নেই।

উপকূলে আঘাত হানতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সোমবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে জীবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের ফলে উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতি সর্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাত থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য জানছেন এবং এই ঝড়ের ফলে জীবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে আইন প্রণেতাসহ তার দলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন এবং ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও ২৪ ঘণ্টার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় ও ত্রাণ পর্যবেক্ষণ সেল চালু করা হয়েছে। এই সেলের হটলাইন নম্বর ০১৭৬৯০১০৯৮৬, ০২-৫৫০২৯৫৫০ ও ০২-৫৮১৫৩০২২।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকায় বরিশাল, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টা থেকে ২১ ঘণ্টার জন্য এই তিন বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে দেশের বিমানবন্দরগুলোর অ্যাপ্রোন এলাকার হালকা যন্ত্রপাতি সরিয়ে রাখা হয়েছে। দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনগুলোকেও তাদের যন্ত্রপাতি নিরাপদ স্থানে রাখতে বলা হয়েছে। বন্ধ না থাকলেও ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামায় বিঘœ ঘটেছে। ঢাকায় নামতে না পেলে কয়েকটি এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

সারা দেশে নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো. গোলাম সাদেক সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আজ মঙ্গলবার যেসব পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, তা ঘূর্ণিঝড়ের কারণে স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক মো. আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ছাড়া অন্যান্য দিনের পরীক্ষার সূচি অপরিবর্তিত রয়েছে। স্থগিত সব পরীক্ষার নতুন সূচি শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তাদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ৮০ শতাংশ পরিপক্ব হলেই ধান কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। সোমবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে কৃষিতে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জরুরি সভায় এ কথা জানান কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম। সভায় সব জেলা ও উপজেলা কৃষি অফিসে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা, পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়াসহ ১০ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকতা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিকভাবে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগপরবর্তী সময়ে শুকনা খাবার, নিরাপদ খাবার পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা চালু রাখাসহ ঘূর্ণিঝড় কবলিত সব জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলার রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ মোকাবিলায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিশেষ সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং কবলিত এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। একইসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠাগারের বই, গুরুত্বপূর্ণ দলিলসহ অন্যান্য উপকরণ নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার মাউশি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পাঠানো হয়েছে।

এদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সতর্ক থাকার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে সব রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, বিশেষায়িত  নৌ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং উপকূলবর্তী জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি : এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে গতকাল সোমবার সকালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ সম্ভাব্য আঘাতকে সামনে রেখে বন্দরের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বন্দরের নিয়ম অনুযায়ী জারি করা হয়েছে এলার্ট-৩। বন্দর জেটিতে থাকা সবগুলো জাহাজ বহির্নোঙ্গরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাহাজশূন্য করা হয়েছে সবগুলো জেটি। বন্দরের ইক্যুইপমেন্টগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ স্থানে নিয়ে প্যাকিং করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সিভিল সার্জন অফিসসহ অন্য সংস্থাগুলো। জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সোমবার দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা করা হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি  স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও এনজিওগুলোকেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, জেলার ১৫টি উপজেলায় ৫১১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাশাপাশি ১৩টি মুজিবকেল্লাতেও উপকূলীয় এলাকার লোকজনের আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চাল, নগদ টাকা, শুকনো খাবার, বিস্কুটসহ বিভিন্ন সামগ্রী মজুদ রাখা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতিতে লোকজনের জরুরি সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় ২৯০টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াস চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে জানান, ঘূর্ণিঝড়কে কেন্দ্র করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। কোথাও কোনো মেডিকেল সাপোর্ট প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য ও নগরবাসীকে জরুরি সেবা দিতে ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য দামপাড়ার কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ঘূর্ণিঝড় চিত্রাংয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কন্ট্রোল রুমের তদারকি করছেন। এছাড়াও দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে আশ্রয়ের জন্য উপকূলীয় এলাকায় ৭৪টি সাইক্লোন শেল্টার ও চসিক পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।