শেরপুর সদর উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, এক কর্মস্থলে তের বছর, প্রশিক্ষণের টাকা, ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে সরকারি টাকা, যুবকদের প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাৎ এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিতর্কিত সনদ দিয়ে চাকরিতে যোগদানসহ নানা অনিয়ম।
শেরপুরের সাংবাদিকদের হাতে আসা বিভিন্ন বিল ভাউচার, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিতে যোগদানের কাগজ, অফিসের হাজিরা খাতা, সরকারি টাকা উত্তোলনের বিভিন্ন ভাউচার এবং অন্যান্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকতে পারেন না।
কিন্তু শেরপুর সদর উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হামিদুর রহমান টানা ১৩ বছর ধরে শেরপুর সদর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে আছেন। ফলে একের পর এক করে যাচ্ছেন অনিয়ম ও দুর্নীতি।
দেখা যায়, তার বাবা শহীদ হন একাত্তরে। কিন্তু ভোটার আইডি কার্ডে হামিদুর রহমানের জন্ম দেখানো হয়েছে ১৯৭৩ সালের ১৪ জানুয়ারি। বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ এবং তার জন্মতারিখে ফারাক থাকলেও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেন তিনি। এ নিয়ে তৎকালীন উপ-পরিচালক (উপ সচিব) সেলিনা শাহাদত তার বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ এবং তার জন্মতারিখ নিয়ে গরমিল দেখতে পেয়ে তার বিরুদ্ধে মহাপরিচালক বরাবর বিভাগীয় তদন্তের জন্য অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু সেই অভিযোগ ও তদন্ত এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
জানা গেছে, হামিদুর রহমান জামালপুর জেলা সদরে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে ২০০৬ সালে এবং পরে ২০১০ সালে শেরপুর সদরে বদলি হয়ে আসেন। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি শেরপুর সদরেই কর্মরত। ইতিমধ্যে শেরপুর সদরের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্বে জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলায় দুই দফায় ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল এবং সর্বশেষ ২০২১ সালের ৩ মার্চ থেকে ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকেন। ঝিনাইগাতীতে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো মাসে ৪ দিন আবার কোনো মাসে ৩দিন শেরপুর থেকে ঝিনাইগাতীতে গিয়ে অফিস করেন। শেরপুর থেকে ঝিনাইগাতীর দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। তিনি যাতায়াত বাবদ নিজের মোটরসাইকেলের জন্য প্রতি মাসে ৩৬ লিটার তেলের ভাউচার তৈরি করে সরকারি টাকা তোলেন।
ঝিনাইগাতী যুব উন্নয়ন অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঝিনাইগাতীতে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকার সময় হামিদুর রহমান তড়িঘড়ি করে সরকার থেকে দেওয়া অফিস খরচ বরাদ্দের ৫৫ হাজার টাকার একটি বিল উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে দাখিল করে পুরোটাই আত্মসাৎ করেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে যুব প্রশিক্ষণের ব্যানার তৈরি না করেই এবং প্রশিক্ষণের বিভিন্ন খরচ না করেই ভুয়া বিল ভাউচার করে অর্থ উত্তোলন করারও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ঝিনাইগাতী অফিস থেকে প্রশিক্ষিত নুরজাহান আক্তার মিতা জানান, কর্মকর্তা হামিদুর রহমান একটি প্রশিক্ষণে তাকে ট্রেইনার হিসেবে নিয়ে এসে ১ হাজার ৫শ টাকা দেন। অথচ ঐ প্রশিক্ষণে বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার টাকা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে হামিদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঝিনাইগাতীতে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে কিছুই জানি না, বরং অফিস সহকারী টাকা তুলে আত্মসাৎ করে থাকতে পারেন। শ্রীবর্দীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সময় ন্যাশনাল সার্ভিসের টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ তাও আমি করিনি। শেরপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য না দিয়ে তার অফিসে চায়ের আমন্ত্রণ জানান। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আজহারুল ইসলাম খান বলেন, অভিযোগের বিষযে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।